বি৭১নি : সিলেটে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশকে সামনে রেখে গতকাল মঙ্গলবার দিনভর অভিযান চালিয়ে বিএনপি, ছাত্রদলের অন্তত ২৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এদের মধ্যে সিলেট মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ডা. শাহরিয়ার হোসেন চৌধুরী, সিসিকের সাবেক প্যানেল মেয়র রেজাউল হাসান কয়েস লোদী রয়েছেন। এদের মধ্যে রাত ৯টার দিকে নগরীর যতরপুরে সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাহের চৌধুরী শামীমের বাসায় বৈঠক থেকে বিএনপির এ শীর্ষ ২ নেতাসহ অন্তত ১৮/১৯ জনকে এবং এর আগে নগরীর উপশহরের রোজভিউ পয়েন্ট থেকে ছাত্রদলের ৬ নেতাকর্মীকে আটক করে।
সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ বলেন, জেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাহের শামীমের বাসায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, মোহাম্মদ শাহজাহান, বরকত উল্লাহ ভুলু, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, তাহসিনা রুশদীর লুনা, এম এ হক, ড. ইনামুল হক চৌধুরী, খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, বিএনপির কেন্দ্রিয় সদস্য সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের বৈঠক চলাকালে পুলিশ বাসা ঘিরে রেখে আমাদেরকে অবরুদ্ধ করে রাখে। সভা থেকে বিশেষ কাজে বের হলে বাসার গেট থেকে ডা. শাহরিয়ার ও মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি কয়েস লোদীসহ আরো ৫/৭ জন নেতাকর্মীকে আটক করে পুলিশ। এছাড়া উপশহর রোজভিউ হোটেলের সামনে থেকে জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের ৬ নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে।
সিলেট জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল আহাদ খান জামাল বলেন, পুলিশ প্রশাসন পুরো নগরীসহ জেলা জুড়ে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। মহাসমাবেশকে পন্ড করতে তারা বিভিন্ন স্থানে বিএনপি ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ধাওয়া করছে। আবার কখনো কখনো বাসাবাড়িতে তল্লাশির নামে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। এ পর্যন্ত ডা. শাহরিয়ার, কয়েস লোদীসহ বিএনপি ছাত্রদলের অন্তত ২৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
তবে আটকের বিষয়টি জানেন না বলে জানিয়েছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার আবদুল ওয়াহাব। তিনি বলেন, আটকের বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে। আমি ছুটিতে আছি। এসএমপির কোতোয়ালী থানার ওসি মোহাম্মদ সেলিম মিঞা বলেন, পুলিশের নিয়মিত অভিযান চলছে।
সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাহের চৌধুরী শামীম বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ সমাবেশের জন্য আমরা বৈঠক করছিলাম। কিন্তু পুলিশ এসে আমাদের নেতাকর্মীদের হয়রানি করছে, আমার বাসার সামনে থেকে এবং বিভিন্ন স্থান থেকে অন্তত ২৫ জন নেতাকর্মীকে আটক করেছে। তিনি বলেন, ‘সমাবেশের প্রচারে পুলিশ বাঁধা দিয়ে আমাদের মাইক নিয়ে গেছে।
এদিকে দীর্ঘদিন পর ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে সিলেটে সমাবেশ করছে বিএনপি। এ নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছে। একের পর এক মামলায় পলাতক থাকা বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতৃবৃন্দ সমাবেশকে সামনে রেখে প্রকাশ্যে বের হচ্ছেন। ইতোমধ্যে অধিকাংশ মামলায় আদালত ও উচ্চ আদালত থেকে জামিনে থাকা নেতৃবৃন্দের মধ্যেও ঐক্যফ্রন্টের এ সমাবেশ প্রত্যাশার ডালা মেলছে। বিএনপি নেতাকর্মীরা সমাবেশ থেকে আগামীর নির্দেশনাই প্রত্যাশা করছেন।
ঐক্যফ্রন্টের স্থানীয় নেতারা জানান, বুধবার সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বি৭১নি/জেএ/বিনিনিপ্র