• ১৬ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ , ২রা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ১০ই জিলহজ, ১৪৪৫ হিজরি

সি‌সিকের হো‌ল্ডিং ট‌্যাক্স নিয়ে বাড়ছে অসন্তোষ, আ‌ল্টিমেটাম

bijoy71news
প্রকাশিত মে ৯, ২০২৪
সি‌সিকের হো‌ল্ডিং ট‌্যাক্স নিয়ে বাড়ছে অসন্তোষ, আ‌ল্টিমেটাম

সিলেট সি‌টি কর‌পো‌রেশ‌নের হো‌ল্ডিং ট‌্যাক্স নি‌য়ে নাগ‌রিক‌দের মা‌ঝে দিন দিন বাড়‌ছে অস‌ন্তোষ। নগরীতে এক লাফে হোল্ডিং ট্যাক্স বেড়েছে কয়েকশগুণ। প্রতিবাদে প্রতিদিনই পালিত হচ্ছে কর্মসূচি। দেওয়া হচ্ছে একের পর এক কর্মসূচি। আলটিমেটাম দেওয়া হচ্ছে সিসিককে।

বৃহস্পতিবার (৯ ‌মে) বেশ কয়েকটি কর্মসূচি পালিত হয়েছে।আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছে সিসিকের প্রধান ফটকে শুয়েপড়াসহ নানা কর্মসূচির। নাগরিক এই আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে তৎপর স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারাও।

নগর ভবনের রাজস্ব শাখা জানায়, কর ধার্যের অর্থবছর ছিল গত ২০২১-২২ সাল; কিন্তু তৎকালীন মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী সেটি তার মেয়াদকালে কার্যকর করেননি। বর্তমান মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর পরিষদ সেটি কার্যকর করতে গিয়েই পড়েছে জনরোষে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ২০১৯-২০ সালে মাঠপর্যায়ে অনুসন্ধান শেষে হোল্ডিং সংখ্যা পুনর্নির্ধারিত হয়। এতে নতুন ১৫ ওয়ার্ড ছাড়া শুধু পুরনো ২৭ ওয়ার্ডের হোল্ডিং সংখ্যা দাঁড়ায় ৭৫ হাজার ৪৩০টি। হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ১১৩ কোটি ২৭ লাখ ৭ হাজার ৪০০ টাকা। নতুন গৃহকর ধার্যের সময় ধরা হয় ২০২১-২২ সাল। কিন্তু তৎকালীন মেয়র আরিফ নির্বাচন সামনে রেখে তা কার্যকর করতে যাননি, স্থগিত রাখেন। যদিও তিনি দলের নিষেধাজ্ঞা থাকায় নির্বাচন করেননি।

সিসিকের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মো. মতিউর রহমান খান জানান, বর্তমানে আরোপিত হোল্ডিং ট্যাক্সের অ্যাসেসমেন্ট ২০১৯-২০ অর্থবছরে করা। সেটি মহানগরের পুরাতন ২৭টি ওয়ার্ডের জন্য কার্যকর করা হয়েছে।

এদিকে সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর দাবি, প্রতি বর্গফুটে দুই টাকা হোল্ডিং ট্যাক্স বাড়ানোর সিদ্ধান্ত ছিল। কয়েকশগুণ বাড়ানোর মতো কিছু আমি করিনি।

নগরীর একজন ভবন মালিক জানান, বছরে ৬০০ টাকা হোল্ডিং ট্যাক্স দিয়ে আসছেন তিনি। নতুন পুনর্মূল্যায়নে সেই হোল্ডিং ট্যাক্স এখন দাঁড়াচ্ছে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৬০০ টাকায়; যা আগের চেয়ে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৬১ গুণ।

অপরদিকে নগরজুড়ে আন্দোলন, আলটিমেটামের মুখে সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী বলছেন, আমি নগরবাসীর নির্বাচিত প্রতিনিধি, তাদের ভোগান্তি বা ক্ষতি হয় এমন কোনো কাগজে আমি স্বাক্ষর করব না। কোনো অসঙ্গতি পেলে ডি-ফরমের মাধ্যমে আপত্তির আহবান জানিয়ে নগরজুড়ে মাইকিং করানো হচ্ছে।

নতুন নির্ধারিত হোল্ডিং ট্যাক্স অবৈধ, অনৈতিক দাবি করে বৃহস্পতিবার বিকালে সিলেটের নাগরিকবৃন্দের ব্যানারে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সিলেটের নাগরিকবৃন্দের আহবায়ক সিলেট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট এমাদ উল্ল্যাহ শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও বাসদ জেলা সদস্য সচিব প্রণব জ্যোতি পালের সঞ্চালনায় প্রতিবাদী মানববন্ধন ও সমাবেশ বক্তব্য রাখেন- সিলেট জেলা সিপিবি সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট বেদানন্দ ভট্টাচার্য, জাসদ জেলা সভাপতি লোকমান আহমেদ, সাম্যবাদী দলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ব্রজপোপাল, গণতন্ত্রী পার্টির জেলা সভাপতি মো. আরিফ মিয়া, বাসদ জেলা আহবায়ক আবু জাফর, ওয়ার্কার্স পার্টি জেলা সভাপতি সিকান্দর আলী, সিলেট আয়কর আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মৃত্যঞ্জয় ধর ভোলা, সিলেট প্রেস ক্লাবের সভাপতি ইকরামুল কবির ইকু, বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতি সিলেট বিভাগের সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট শিরিন আক্তার, ব্লাস্টের সাবেক সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট ইরফানুজ্জামান চৌধুরী, সিনিয়র আইনজীবী কল্যাণ চৌধুরী, সিনিয়র সাংবাদিক আব্দুল মালিক জাকা, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের জেলা সভাপতি সিরাজ আহমদ, জাসদ মহানগর সভাপতি ফারুক আহমেদ, জাসদ মহানগর সাধারণ সম্পাদক গিয়াস আহমদ, গণতন্ত্রী পার্টির জেলা সাধারণ সম্পাদক জুনেদুর রহমান চৌধুরী, জাসদ জেলার সাধারণ সম্পাদক কেএ কিবরিয়া, সিপিবি জেলা সাধারণ সম্পাদক খায়রুল হাছান, সাম্যবাদী আন্দোলন জেলা সদস্য অ্যাডভোকেট মহিতোষ দেব মলয়, বিশিষ্ট সমাজসেবক সোলেমান আহমদ, লন্ডন সিটি জাসদের সভাপতি সৈয়দ মোস্তাক আহমদ, মো. আব্দুল মোনায়েম, বাসদ জেলা নেতা জুবায়ের আহমদ চৌধুরী, নাগরিক মৈত্রীর আহবায়ক অ্যাডভোকেট সমর বিজয় সী শেখর, সিলেট আয়কর আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ আজিজুর রহমান, গণতান্ত্রিক আইনজীবী পরিষদের আহবায়ক অ্যাডভোকেট মনির উদ্দিন, সিলেট আইনজীবী সমিতির সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ূন রশীদ সোয়েব, বাপা জেলা সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম কিম, মো. সদর উদ্দিন, শওকত আলী শান, মো, আহমেদ কিবরিয়া বকুল, অ্যাডভোকেট সুমিত শ্যাম পল, মুসা রেজা চৌধুরী, এনামুল হক, মো. আব্দুল খালিক, মো. আরজ চৌধুরী, আলা আহমেদ সেলিম, এম এম ছুহেল আহমেদ, দীনবন্ধু পাল, জিয়াউর রহমান, মো. নজরুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট উজ্জ্বল রায়, ন্যাপ জেলা সাধারণ সম্পাদক ইশমত ইবনে ইসহাক সানজিদ, গণতন্ত্রী পার্টির জেলা দপ্তর সম্পাদক আজিজুর রহমান খোকন, বাসদ মার্কসবাদী নেতা সঞ্জয় দাসসহ সিলেটের বিভিন্ন রাজনৈতিক, পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধি ও ২৭ ওয়ার্ডের ভুক্তভোগী নাগরিকরা।

এদিকে সিলেট অ্যাপার্টমেন্ট অ্যান্ড রিয়েল এস্টেট গ্রুপ (সারেগ) সিলেটের নেতারা বুধবার মেয়র বরাবরে স্মারকলিপি দিয়েছেন হোল্ডিং ট্যাক্স কমানোর দাবিতে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- সিলেট অ্যাপার্টমেন্ট অ্যান্ড রিয়েল এস্টেট গ্রুপের (সারেগ) সভাপতি মাওলানা খায়রুল হোসেন, সহ-সভাপতি মাহী উদ্দিন আহমদ সেলিম, সাধারণ সম্পাদক দিলওয়ার হোসাইন ছাড়াও তাজুল ইসলাম হাসান, খলিলুর রহমান মাসুম, মাওলানা খলিলুর রহমান, শাহ আশিকুর রহমান, নিহাল আহমদ, শহীদ আহমদ চৌধুরী সাজু, বিল্পবী মুজিবুর রহমান ও শাহাজান কবির ডালিম।

অপরদিকে ১৫ দিনের মধ্যে হোল্ডিং ট্যাক্স কার্যক্রম স্থগিত করে পুনর্নির্ধারণ করা না হলে আগামী ২ জুন সিসিকের সামনে শোয়া কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বৃহত্তর সিলেটের অরাজনৈতিক কল্যাণমূলক স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন সিলেট কল্যাণ সংস্থা।

এরআ‌গে বুধবার নগর ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি ও মেয়র বরাবর স্মারকলিপি প্রদানের সময় এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। সংস্থার কার্যকরী কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ এহছানুল হক তাহেরের সভাপতিত্বে ও সৈয়দ রাসেলের পরিচালনায় এ সময় সংগঠনের নেতারা বক্তব্য রাখেন।