দেশের ১৫টি গ্রামে শহরের সকল সুবিধা দিতে যাচ্ছে সরকার। প্রাথমিক পর্যায়ে ৮ বিভাগের ৮টি গ্রামকে ‘শহর’ করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলার বাগাইয়া গ্রাম।
এ বিষয়ে গত জুলাইয়ে ৮০০ কোটি টাকা ব্যয়ের একটি পাইলট (পরীক্ষামূলক) প্রকল্প নিয়েছে সরকার। প্রকল্পটির মাধ্যমে ১৫টি গ্রামে শহরের সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। আগামী বছরের শুরুতে এ প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
গ্রামে শহরের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে ‘আমার গ্রাম, আমার শহর: পাইলট গ্রাম উন্নয়ন’ নামের প্রকল্পটি নেওয়া হয়। গত ১৯ জুলাই জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি পাস করা হয়। ২০২৬ সালের জুনে এটি শেষ হওয়ার কথা।
পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য দেশের আট বিভাগের আটটি উপজেলার আটটি গ্রামকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ ছাড়া হাওর, চর, পার্বত্য জেলা, উপকূল, বরেন্দ্র, বিল এবং অর্থনৈতিক অঞ্চলসংলগ্ন আরও সাতটি গ্রামকে বাছাই করা হয়েছে।
১৫টি গ্রাম হলো- সিলেটের গোয়াইনঘাটের বাগাইয়া, কুমিল্লার মনোহরগঞ্জের শাকচাইল, খুলনার ডুমুরিয়ার টিপনা, সাতক্ষীরার শ্যামনগরের দাতিনাখালি, সুনামগঞ্জের শিমুলবাঁক, নওগাঁর নিয়ামতপুরের খোরদো চম্পা, চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের চরশরত, রাঙ্গামাটির বরকলের ছোট হরিণা, রাজশাহী বাগমারার সোনাডাঙ্গা, কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীর পাথরডুবি, গাইবান্ধার ফুলছড়ি, বরিশালের হিজলার ইন্দুরিয়া, গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরের বিলচান্দা, নরসিংদীর মনোহরদীর হাফিজপুর এবং নেত্রকোনার বারহাট্টার দক্ষিণ ডেমুরা।
প্রকল্পটির অধীনে সড়ক, সেতু ও মাঠ তৈরি, গ্রামীণ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পানি সরবরাহব্যবস্থা করা, হাটবাজার, কবরস্থান ও ঈদগাহের সংস্কার এবং সামাজিক অনুষ্ঠানের স্থাপনা নির্মাণ ইত্যাদি উন্নয়ন করা হবে। স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে।
প্রকল্প প্রস্তাব অনুসারে- প্রকল্পের প্রধান কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে ১৮১ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬৫৭ কিলোমিটার সড়ক, সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ। পরিচ্ছন্ন জ্বালানির জন্য ৫৩ হাজার ‘বন্ধু চুলা’ সরবরাহ করা হবে গ্রামবাসীকে। থাকবে বায়োগ্যাস উৎপাদনের ব্যবস্থা এবং সড়কবাতি। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে গতিশীল করতে পাইলট গ্রামে ২৩টি গ্রামীণ হাটবাজার নির্মাণ করা হবে। একই সঙ্গে গ্রাম প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ, খাল খনন ও পুকুর খননের কাজ করা হবে।
এ প্রকল্পে গ্রামীণ আবাসনকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কোনো ভূমি অধিগ্রহণ ছাড়াই ‘নিজেদের গ্রামে, নিজেদের জমিতে’ মডেলের মাধ্যমে আবাসন গড়ে তোলা হবে। প্রকল্প প্রস্তাবের তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে তিনটি গ্রামে ৬৮টি চারতলা আবাসিক ভবন নির্মাণ করা হবে। জমি এবং ১০ শতাংশ অর্থ উপকারভোগী দেবেন। বাকি ৯০ শতাংশ অর্থ সুদমুক্ত কিস্তিতে ২৫ বছরে পরিশোধ করবেন। এ আবাসন সুবিধা তৈরি করতে ১১০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণে ব্যয় হবে ৬২ কোটি টাকা। গ্রামের সড়কে বনায়নের জন্য রাখা হয়েছে ২ কোটি টাকা। প্রকল্পের মাধ্যমে ৫ হাজার ১০০ বেকার তরুণকে জীবনমান উন্নয়নে পেশাভিত্তিক হস্তশিল্প ও কৃষি প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এ খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ২০ কোটি টাকা।
বিশুদ্ধ পানির জন্য পাইপে পানি সরবরাহ এবং নলকূপ (সাবমারসিবল টিউবওয়েল) স্থাপন করা হবে। পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশনে ব্যয় হবে ৪৩ কোটি টাকা। প্রতিটি পাইলট গ্রাম ও তার বাণিজ্যিক এলাকায় গড়ে তোলা হবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র।
জানা গেছে, একনেকে প্রকল্পটি পাস হলেও এর কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে সময় লাগবে। এখনো প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ হয়নি। আগামী সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে প্রকল্পের অর্থ ছাড় হবে। ফলে আগামী বছরের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি নাগাদ প্রকল্পের কাজ শুরু হতে পারে।