
বি৭১নি ডেস্ক :
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যেনতেনভাবে ক্ষমতায় আসার আকাঙ্ক্ষা নেই বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ বুধবার দুপুরে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই আয়োজিত ‘শান্তি ও সমৃদ্ধির পথে বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে সুন্দর শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ আছে। সকলেই যেন শান্তিপূর্ণ পরিবেশটা বজায় রাখে। এখানে জনগণ ভোট দেবে, যাকে দেবে তারাই ক্ষমতায় আসবে। আমার এমন কোনো আকাঙ্ক্ষা নেই, যেনতেনভাবে ক্ষমতায় আসতে হবে। দেশের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিক। ভোট দিয়ে তারা তার সরকার পছন্দ করে নিক।’
সরকারের টানা মেয়াদে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির পদক্ষেপ ও পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই বিদ্যুৎ কিন্তু কখনো বেসরকারি খাতে ছিল না। কেবলমাত্র সরকারি খাত থেকে উৎপাদন হতো। আওয়ামী লীগ সরকার আসার পর আইন করে এটা বেসরকারি খাতে উন্মুক্ত করে দেয়। সঙ্গে সঙ্গে আমাদের যারা শিল্পমালিক তাদেরকেও অনুমোদন দিয়ে দেই। তারা ১০,২০,৩০ মেগাওয়াট যা-ই পারেন ক্যাপটিভ জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে নিজের ফ্যাক্টরিতে ব্যবহার করাসহ পাশে বিক্রি করতে পারবেন। আমরা এই সুযোগ করে দিই।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি মনে করি, ব্যবসা-বাণিজ্য ছাড়া কোনো দেশ উন্নতি করতে পারে না। আর সব কাজ সরকার একা করবে না। একা করতে পারে না। সরকারের হাতে কিছু থাকবে, যাতে অর্থনৈতিক অবস্থাটাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে এবং একটা সুস্থ পরিবেশ রাখতে পারে। কিন্তু মূল ব্যবসাটা করবে বেসরকারি খাত। তাই যখনই আমরা সরকারে এসেছি, বেসরকারি খাতের জন্য ব্যবসা-বাণিজ্য উন্মুক্ত করে দিয়েছি। আমরা ব্যবসা করতে আসিনি। কিন্তু ব্যবসায়ীদের জন্য ব্যবসা করবার মতো পরিবেশ তৈরি করে দেওয়াই হচ্ছে আমাদের লক্ষ্য।’
শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘গতকাল আমরা যে নির্বাচনী ইশতেহারটা দিয়েছি আমরা কিন্তু সেই রাজনৈতিক দল এই উপমহাদেশে, আমরা আমাদের নির্বাচনী ইশতেহার একবার ঘোষণা দিয়ে ফেলে দেই না। এই ইশতেহারটা আমাদের সঙ্গে থাকে। সেই সঙ্গে যখনই কোনো প্রজেক্ট নিই বা বাজেট করি; তখন এই বাজেট করার সময় প্রত্যেকটি মন্ত্রণালয়ে নির্বাচনী ইশতেহারের একটা কপি দিয়ে দেই। কারণ আমরা যে ওয়াদা দিয়েছি সেই ওয়াদা আমরা পূরণ করতে চাই। যদি সুযোগ হয় তার চেয়েও বেশি করি।’
জনগণের উন্নয়নের কল্যাণে কঠোর পরিশ্রম করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, ‘আমাকে অনেকেই প্রশ্ন করে,আপনি সারা দিন-রাত এত কঠোর পরিশ্রম করেন কেন? আমার একটাই কথা। আমার বাবা এ দেশটা স্বাধীন করে দিয়ে গেছেন। এ দেশের দুঃখী মানুষের মুখে তিনি হাসি ফোটাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি সেটা করে যেতে পারেন নাই। তাই তার সেই অসমাপ্ত কাজটা সম্পন্ন করা আমি আমার দায়িত্ব হিসেবে নিয়েছি, কর্তব্য হিসেবে নিয়েছি।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া শিখেছে। তারা তাদের মতো নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে চলবে। তাদের জন্য কী রাখতে হবে, না রাখতে হবে ওই চিন্তা কখনো আমি করি না। আমি চিন্তা করি বাংলাদেশের মানুষের জন্য কী রেখে গেলাম, কী করে গেলাম, কতটুকু করতে পারব। ভবিষ্যতের জন্য কী করব, যেন সকলের ছেলেমেয়েই আগামীতে সুন্দর জীবন পায়। সেটাই আমি চিন্তা করি। যেভাবেই আমাদের সকল কর্মকাণ্ড সকল পদক্ষেপ আমরা নিয়েছি। যে স্বপ্নটা নিয়ে আমার বাবা দেশ স্বাধীন করেছিলেন, সেই স্বপ্নটাই আমরা পূরণ করতে চাই।’
সরকারের অনেক পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘জাতির পিতা একটা কথা বলতেন, বাংলাদেশকে তিনি গড়ে তুলবেন প্রাচ্যের সুইজারল্যান্ড হিসেবে।’
এ বিষয়ে ভৌগোলিকগতভাবে সুইজারল্যান্ডের অবস্থান ও সুবিধার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ইউরোপের একদিক থেকে আরেকদিকে যেতে হলে কিন্তু ওই সুইজারল্যান্ডকে ব্যবহার করতে হয়। সুইজারল্যান্ড একটি শান্তিপূর্ণ দেশ। জাতির পিতাও বাংলাদেশকে সেইভাবে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। যাতে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের মধ্যে একটা সেতুবন্ধন করতে পারে বাংলাদেশ। তার জন্য অবকাঠামোগত উন্নয়নের প্রয়োজন। সেই উন্নয়নের কাজ হাতে নিয়েছি। প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে একটা যোগাযোগ এবং সদ্ভাব সেটাও আমরা খুব সফলতার সঙ্গে করতে পেরেছি।’
মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা কিন্তু প্রতিবেশীর সঙ্গে ঝগড়া করতে যাইনি। আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে একটা সমাধান করার প্রচেষ্টা নিয়েছি এবং একটা এগ্রিমেন্টেও সই করেছি। ঠিক সেইভাবে সমুদ্রসীমা, স্থলসামীনাসহ যে সমস্ত জায়গায় এতটুকু জটিলতা ছিল, সেটা আমরা সমাধান করেছি।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘সেই সঙ্গে জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাস-মাদক এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে যে অভিযান, এটা অব্যাহত রাখব। যাতে আমাদের সমাজে শান্তি ফিরে আসে। জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাস থাকলে কোনো দেশ উন্নতি করতে পারে না। কাজেই আমাদের দেশে একটা শান্তিপূর্ণ অবস্থান থাকুক। ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচন। আমি অনেক কিছু সহ্য করেও সকলের সঙ্গে বসে কথা বলেছি। প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আলোচনা করেছি।’
সম্মেলনে বাংলাদেশের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নেতা ও শিল্পপতিরা আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুনরায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান বলে জানান এবং নৌকার বিজয়ে পাশে থাকার সাহস ও শক্তি দেন।