• ১৩ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৩০শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , ২৫শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

কিছুই চাওয়ার নেই, শুধু মেয়ে হত্যার বিচার চাই’: নুসরাতের বাবা

bijoy71news
প্রকাশিত এপ্রিল ১১, ২০১৯

বি৭১নি ডেস্ক :
‘এখন আমার আর কিছুই চাওয়ার নেই। আমি আমার মেয়ের হত্যার দ্রুত বিচার চাই,’ এভাবেই বলেছেন নুসরাতের বাবা একেএম মুসা মানিক। আজ বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে বার্ন ইউনিটের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি এই কথাগুলো বলেন।
নুসরাতের বাবা বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞ। আমি আপনাদের সবার কাছে কৃতজ্ঞ। আপনারা আমার মেয়ের জন্য অনেক করেছেন। এখানকার চিকিৎসকরা আমার মেয়েকে বাঁচানোর অনেক চেষ্টা করেছেন, কিন্তু বাঁচাতে পারেননি। এখন আমার আর কিছুই চাওয়ার নেই। আমি আমার মেয়ের হত্যার দ্রুত বিচার চাই। আমার মেয়ে হত্যার বিচারটা যেন দ্রুত হয়। যারা অপরাধী তারা যেন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পায়।’
নিজের মেয়েকে নিষ্পাপ দাবি করে একেএম মুসা মানিক বলেন, ‘হেনস্তার প্রতিকার চেয়ে খুন হলো সে। যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সুষ্ঠু তদন্তসাপেক্ষে আইনের আওতায় এনে তাদের শাস্তি দেওয়া হলেই আমার মেয়ের আত্মা শান্তি পাবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘তাকে প্রথমে যেভাবে হেনস্তা করা হয়েছে, তার প্রতিকার চেয়েছিল নুসরাত। থানায় গিয়েছিল মামলা দিতে, কিন্তু পুলিশের পক্ষ থেকে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়। পরে নৃশংসভাবে তাকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। আমি ভাষা হারিয়ে ফেলছি…।’
এটুকু বলেই কান্নায় ভেঙে পড়েন মুসা। চোখ মুছতে মুছতে তিনি বলেন, ‘আমি শুধু আমার মেয়ের শান্তি চাই, আর তা হতে পারে বিচারের মধ্য দিয়ে…।’
গতকাল বুধবার রাত সাড়ে ৯টায় ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি (১৮)। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
লাইফসাপোর্টে যাওয়ার আগেও রাফি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। দগ্ধ হওয়ার আগে দুই বান্ধবীর কাছে লেখা চিঠিতে তিনি ঘটনার শেষ দেখার ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন। কিন্তু তার শেষ দেখা হলো না। এর আগেই নিভে গেল জীবনপ্রদীপ। রাতে তার মরদেহ হিমঘরে রাখা হয়।
এদিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে সুরতহাল ও ময়নাতদন্তের পর ফেনীর নিজ বাড়ির পথে রয়েছে নুসরাতের মরদেহ। বৃহস্পতিবার দুপুর সোয়া ১২টায় নুসরাতের স্বজনরা তার মরদেহ নিয়ে বাড়ির পথে রওনা হন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বৃহস্পতিবার তাকে দাফন করা হবে। বাদ আসর সোনাগাজী সাবের পাইলট হাইস্কুল মাঠে জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।
প্রসঙ্গত, শনিবার সকালে ফেনীর সোনাগাজীতে পরীক্ষা কেন্দ্রের ভেতর নুসরাতের (১৮) গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে হত্যাচেষ্টা চালায় দুর্বৃত্তরা। সোনাগাজী পৌর এলাকার ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। নুসরাত ওই মাদ্রাসা থেকেই আলিম পরীক্ষা দিচ্ছিলেন।
আগুনে হত্যাচেষ্টার পর নুসরাতকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে ঢামেকে নিয়ে আসা হয়। তার চিকিৎসায় গঠিত হয় মেডিকেল বোর্ড।পরে গতকাল রাত সাড়ে নয়টায় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাফির মৃত্যু হয়।