বি৭১নি ডেস্ক :
রাজধানীর শাহজাদপুর এলাকায় সুপ্রভাত পরিবহনের একটি বাস বেপরোয়া গতিতে কলেজের এক শিক্ষার্থীকে চাপা দিয়ে গুরুতর জখম করে। এর পর বাসের যাত্রীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওই বাসের চালক সিরাজুল ইসলামকে আটক করে ট্রাফিক পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। তখন জনতা বাস ভাঙচুর চালাতে পারে- এমন আশঙ্কায় মালিকের নির্দেশে ড্রাইভিং সিটে বসে পড়েন কন্ডাক্টর ইয়াসিন আরাফাত। মূলত ঘটনাস্থল থেকে বাস নিয়ে দ্রুত পালাতে গিয়েই বিইউপি শিক্ষার্থী আবরার আহমেদকে চাপা দেন তিনি। এর ফলে ঘটনাস্থলেই প্রাণ যায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আবরারের।
চাঞ্চল্যকর এ মামলাটি ডিবি পুলিশের তদন্ত করছিল। তদন্তকালে গ্রেপ্তার প্রথম চালক সিরাজুলকে জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য বেরিয়ে এসেছে। গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাতে চাঁদপুরের শাহরাস্তি এলাকায় অভিযান চালিয়ে আবরারকে চাপা দেওয়ার সময় চালকের আসনে থাকা কন্ডাক্টর ইয়াসিন আরাফাতকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আজ বুধবার সকালে রাজধানীর মধ্যবাড্ডা এলাকা থেকে হেলপার ইব্রাহিমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
আজ বুধবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার আব্দুল বাতেন।
সিরাজুলকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে আব্দুল বাতেন বলেন, গত ১৯ মার্চ পুরান ঢাকার ভিক্টোরিয়া পার্ক এলাকা থেকে সকাল পৌনে ছয়টার দিকে গন্তব্যে রওনা দেয় সুপ্রভাত পরিবহনের বাসটি। পথিমধ্যে বাসটি রাজধানীর শাহজাদপুরের বাঁশতলা এলাকায় মিরপুর আইডিয়াল গার্লস ল্যাবরেটরি কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী সিনথিয়া সুলতানাকে চাপা দিয়ে গুরুতর জখম করে। এর পর বাসের যাত্রীরা চালক সিরাজুলকে আটক করে ট্রাফিক পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।
ইয়াসিনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে তিনি বলেন, এ সময় উপস্থিত জনতা বাসের ক্ষতি করতে পারবে এমন আশঙ্কায় বাস মালিক ননী গোপালের নির্দেশে ড্রাইভিং সিটে বসেন কন্ডাক্টর ইয়াসিন। কোনো ধরনের ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকা স্বত্ত্বেও বাস নিয়ে দ্রুত পালানোর সময় নর্দ্দা এলাকা পার হতেই বিইউপি শিক্ষার্থী আবরারকে চাপা দিয়ে হত্যা করে।
হত্যার পর ইয়াসিন বাসটি রেখে আত্মগোপনে চলে যায়। পরে মঙ্গলবার রাতে চাঁদপুরের শাহরাস্তি এলাকার একটি ইটের ভাটা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার সকালে মধ্যবাড্ডা থেকে বাসের হেলপার ইব্রাহিমকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ইয়াসিন প্রাথমিকভাবে বাসচাপা দিয়ে আবরারকে খুনের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। এ ছাড়া বাস মালিক ননী গোপাল ডিবির নজরদারিতে রয়েছেন বলেও জানান আব্দুল বাতেন।