বি৭১নি ডেস্ক :
মুরগি চুরির অভিযোগে ভোলার চরফ্যাশনে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরকে বেঁধে প্রকাশ্যে অমানবিক নির্যাতনের ঘটনার প্রধান আসামি ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য আমজাদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার রাত ৯টার দিকে চরফ্যাশন পৌর শহরের রাস্তা থেকে তাকে শশীভূষণ ও চরফ্যাশন থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করে।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে আমজাদকে আদালতে সোপর্দ করলে বিচারক জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
শশীভূষণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুনিরুল ইসলাম আমাদের সময়কে জানান, গত মঙ্গলবার গ্রেপ্তার বাবুল মাঝির (৪৫) দেওয়া তথ্যমতে আমজাদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গত ১৫ নভেম্বর বেলা ১১টার দিকে হাজারীগঞ্জে মুরগি চুরির অপবাদে ৯নং ওয়ার্ডের আব্দুল মালেকের ছেলে রুবেলকে (১৪) স্কুল মাঠে প্রকাশ্যে অমানবিক নির্যাতন করে ইউপি সদস্য আমজাদ। এ সময় রুবেলকে চিকিৎসা পর্যন্ত নিতে দেয়নি আমজাদের লোকজন। ২ মাস পর নিযার্তনের ভিডিও ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হলে শশীভূষণ থানা মামলা গ্রহণ করে।
মামলার এজাহারভুক্ত আসামি বাবুলকে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে আমজাদের নির্দেশে রুবেলের উপর অমানবিক নির্যাতন চালানোর কথা স্বীকার করেন ।
ওসি মনিরুল ইসলাম আরও বলেন, ‘মামলার অগ্রগতির স্বার্থে এ মুহূর্তে তথ্য গোপন রাখা হচ্ছে। মঙ্গলবার সকালে বাবুল মাঝিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করে ৫ দিনের রিমান্ড দাবি করলে বিচারক দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।’
তিনি জানান, মামলা দায়েরের পরই চিকিৎসার জন্য রুবেলকে চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। গতকাল বুধবার তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে বলে উপজেলা স্বান্থ্য কমপ্লেক্স কর্মকর্তা ডা. শোভন বসাক জানিয়েছেন।
ওসি মনিরুল ইসলাম আরও জানান, হাইকোর্ট আগামী রোববারের মধ্যে রুবেলকে অমানবিক নির্যাতনে মামলা গ্রহণের বিলম্ব, আসামি গ্রেপ্তার, চিকিৎসা ও নিরাপত্তার বিষয়ে অনুসন্ধান প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দিয়েছেন। পুলিশের কাছে অভিযোগ দাখিলের পরই এজাহার হিসেবে গণ্য করা হয় তবে অপরাধীরা পলাতক থাকায় গ্রেপ্তার করতে বিলম্ব হলেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১৫ নভেম্বর বেলা ১১টার দিকে হাজারীগঞ্জে মুরগি চুরির অপবাদে ৯নং ওয়ার্ডের আব্দুল মালেকের ছেলে রুবেলকে (১৪) স্কুল মাঠে প্রকাশ্যে অমানবিক নির্যাতন করে ইউপি সদস্য আমজাদ। এ সময় রুবেলকে চিকিৎসা পর্যন্ত নিতে দেয়নি আমজাদের লোকজন।
ঘটনার ২ মাস পর নিযার্তনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ভাইরাল হলে শশীভুষণ থানায় ইউপি সদস্য আমজাদ হোসেনসহ ৬ জনকে বিবাদী করে মামলা দায়ের করেন রুবেলের মা বিলকিস বেগম।
ঘটনার পর কেন আইনের আশ্রয় নেওয়া হয়নি সে বিষয়ে বিলকিস বেগম জানান, আমজাদ ও তার লোকজন আমাকে অনেক হুমকি-ধামকি দিয়ে এলাকায় আটকে রাখে। এরপরেও অনেক কষ্টে রুবেলকে নিয়ে শশীভূষণ থানায় গিয়ে ওসি’কে না পেয়ে উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) পবিত্র কুমারের কাছে লিখিত অভিযোগ করলে থানা থেকে তাদের তাড়িয়ে দেওয়া হয় বলেও জানান তিনি।
এ ব্যাপারে উপপুলিশ পরিদর্শক পবিত্র কুমার জানান, কিশোর নির্যাতনের বিষয়ে তার কাছে কেউ অভিযোগ করেনি।