নিজস্ব প্রতিবেদক :
সিলেট-১ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মাহবুবুর রহমান চৌধুরী। প্রচার-প্রচারণায় ততটা সরব না থাকলেও হলফনামায় নিজের পেশা হিসেবে ‘জমিদার’ উল্লেখ করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন মাহবুব। হলফনামায় নিজেকে স্বশিক্ষিত হিসেবেও উল্লেখ করেছেন মাহবুব।
সিলেটের ৬টি আসনের ৪৩ প্রার্থীর মধ্যে একমাত্র মাহবুবুর রহমান চৌধুরীই নিজেকেই ‘জমিদার’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। যদিও ১৯৫০ সালেই বিলুপ্ত হয়ে গেছে জমিদারী প্রথা।
পেশা হিসেবে ‘জমিদার’ লেখা নিজেকে জুলুমবাজ হিসেবে প্রকাশ করার মতো একটি কাজ উল্লেখ করে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সিলেটের সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী বলেন, যদি তিনি তাঁর নির্বাচনী হলফনামায় জমিদার পেশা উল্লেখ করে থাকেন তাহলে এটি একটি ভাঁওতাবাজি। কারণ জমিদার বলতে আমরা একজন জুলুমবাজকে বুঝি। সুতরাং একজন জুলুমবাজ কোনভাবেই জনগণের প্রতিনিধি হতে পারেন না।
শিক্ষাগত যোগ্যতা স্বশিক্ষিত লেখা সম্পর্কে সুজনের এ সভাপতি বলেন, স্বশিক্ষিত শব্দটা এখন এদেশের নির্বাচনী কাজে ব্যাপক ব্যবহার হচ্ছে। কিন্তু স্বশিক্ষিত বলতে আমরা যা বুঝি তা হচ্ছে ওই প্রার্থীর কোন অক্ষরজ্ঞান নেই। তিনি নিজে নিজে শিক্ষা অর্জন করেছেন। তা না হলে তিনি ৫ম হোক আর ৬ষ্ঠ হোক যে শ্রেণি পাশই হোন না কেন তিনি তা উল্লেখ করতেন। সুতরাং এসব বিষয় নির্বাচন কমিশনার খতিয়ে দেখা উচিত।
ফারুক মাহমুদ আরও বলেন, জমিদারের বিভিন্ন ধরণ আছে। কোন কোন ক্ষেত্রে কারো বেশি জমি থাকলেও তাঁকে জমিদার বলা হয়। তাছাড়া সিলেট শহরে মোট ৬ পরিবার জমিদার ছিলেন জানিয়ে তিনি বলেন, এ ৬ পরিবারের ২ পরিবার মুসলমান এবং বাকি ৪ পরিবার হিন্দু। মুসলমানদের মধ্যে মজুমদার বাড়ি, জিতুমিয়ার বাড়িই কেবল জমিদার বংশের মানুষ। এর বাইরে আর কেউ জমিদার পরিবারের সন্তান দাবি করাটাও অন্যায় বলে জানান তিনি।
এ ব্যাপারে জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী মাহবুবুর রহমান চৌধুরী বলেন, জমিদার বলতে আমি ব্রিটিশ শাসনামলের জমিদার বুঝাইনি।
তিনি বলেন, ‘এখানে আমার পেশা হিসেবে আমি জমিদার লিখেছি কারণ আমার অনেক বাসা-বাড়ি আছে। তাই আমি জমিদার। জমিদার বলতে শুধু কি ব্রিটিশ আমলের জমিদার, প্রশ্ন করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, যাদের অনেক জায়গাজমি থাকে, বাসাবাড়ি থাকে তারাও জমিদার। আমি এসব জমিদারদের একজন।’
শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়ে তিনি বলেন, স্বশিক্ষিত বলতে আমার কোন সার্টিফিকেট নেই। আমি নিজে নিজে শিক্ষিত হয়েছি।