• ১১ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২৮শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , ২৩শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

অরিত্রির অভিমান সঠিক ছিল : আসিফ

bijoy71news
প্রকাশিত ডিসেম্বর ৬, ২০১৮

বি৭১নি ডেস্ক : রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্রী অরিত্রি অধিকারীর আত্মহত্যায় পুরো দেশ ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে। এ ঘটনায় কলেজের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনের ডাকও দেয়। শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌসসহ তিন শিক্ষককে বহিষ্কারের চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরই মধ্যে অরিত্রি’র আত্মহত্যার ঘটনায় সঠিক বিচার চেয়ে আওয়াজ তুলেছেন শোবিজ অঙ্গনের তারকারা।

বুধবার সঙ্গীতশিল্পী আসিফ আকবর তার ফেসবুক পেজে অরিত্রিকে উদ্দেশ্য করে লিখেন-

‘আমাদের শৈশব কৈশোর কখনোই জীবন থেকে আলাদা ছিল না, এখনও নেই। মিশনারী স্কুল থেকে প্রাথমিক শিক্ষা এবং শৃঙ্খলা শিখেছি। ক্লাস থ্রি’তে মারামারির অভিযোগে TC পেয়ে সরকারী স্কুলে ভর্তি হতে হয়েছে। বাঁচার প্রবল আগ্রহ আর শিক্ষাসনদ প্রাপ্তির মরিয়া চেষ্টা ছিল, আছে এখনও। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের শাস্তিকে হাসি মুখে বরণ করতাম আশীর্বাদ কিংবা দোয়া ভেবে, কখনও মরে যেতে ইচ্ছে হয়নি। এখনকার অস্থির সমাজ আর ভুলে যাওয়া জাতির বৈশিষ্ট্যমন্ডিত চরিত্র আমাদের সন্তানদের সকল চলার পথকে দিনে দিনে পঙ্কিল আর বন্ধুর করে ফেলছে।’

আসিফ আকবর আরও লিখেন- ‘আমার দুই সন্তান এক্স ক্যাডেট, রুদ্র আদমজী ক্যান্ট কলেজে ইন্টার পড়েছে। কলেজ কর্তৃপক্ষের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা ছিল এবং আছে- বাচ্চারা মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবে না স্কুল চলাকালীন সময়ে। আমাদের পুরনো আর বর্তমানের বিভাজন সুস্পষ্ট, অবক্ষয় আর না বোঝার সংস্কৃতিতে অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছি। আমি আর আমার বেগম রুদ্রকে কখনোই অ্যালাউ করিনি কলেজ চলাকালীন সময়ে মোবাইল ব্যবহারের পক্ষে। ভুল করেছে ধরাও পড়েছে শাস্তিও পেয়েছে। আত্মহত্যায় কেন প্ররোচিত হবে শিশুরা! রুলস মানতেই হবে।

অরিত্রি’র অভিমান সঠিক ছিল। সন্তানদের প্রতিযোগিতায় ফেলেছি আমরাই। ভুল আমার কিংবা আমাদের। একটা সময় ছিল, যখন অনেক সন্তানের বাবা মায়েরা অভ্যস্ত হয়ে গেয়েছিল রোগে অসুখে সন্তানের মৃত্যুতে। অরিত্রি এ প্রজন্মের বাচ্চা, শিক্ষক আর ম্যানেজমেন্ট এক জিনিস হতে পারে না। এটা বাচ্চাদের বোধগম্য হওয়ার কথাও নয়। এখানে প্রশ্ন তোলার ন্যূনতম সুযোগ নেই। তবুও প্রশ্ন এসেই যায়- অরিত্রি কেন নেই আমাদের মাঝে? মা আমার- এটা আমার এবং আমাদের ব্যর্থতা। একটা মোবাইল ফোন অপমৃত্যুর কারণ হতে পারে না। আমিই দায়ী, এতটুকু শাসনে থাকলে হয়তো তুমি মোবাইল ফোনটা সঙ্গে নিতে না। আমরা শাসনের সাথে স্নেহের সম্পর্ক ভুলে যাচ্ছি। জাতিগত অভ্যাস অনুযায়ী অরিত্রি আবারও হবে একটা ভুলে যাওয়া ইতিহাস। আমরা মা-বাবারা আর কাঁদতে চাই না সন্তানদের অকাল প্রয়াণে। অরিত্রি মা আমার, একজন দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে তোমার প্রতি অবহেলার জন্য ক্ষমা চাই। আসুন আমরা অরিত্রিদের সুন্দর ধরণী দেয়ার চেষ্টা করি। কোন লাভ নেই, তবুও সমবেদনা তোমার পরিবারের জন্য…’