• ১২ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২৯শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , ২৪শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

আজকের কম্পন জমা শক্তির একটি ছোট অংশমাত্র: ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ

bijoy71news
প্রকাশিত নভেম্বর ২১, ২০২৫
আজকের কম্পন জমা শক্তির একটি ছোট অংশমাত্র: ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ

ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে অনুভূত হয়েছে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প। নরসিংদীর মাধবদীকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট এই ভূকম্পনকে দেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসে স্মরণকালের সবচেয়ে তীব্র ঝাঁকুনি হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এতে এখন পর্যন্ত সাতজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

ভূমিকম্প ঘটনার পর ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ ও অধ্যাপক হুমায়ুন আখতার বলেন, “বাংলাদেশ ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল। আজকের ভূমিকম্পটি শক্তিশালী হওয়ার কারণ হলো—পূর্বদিকে বার্মা প্লেট এবং পশ্চিম দিকে ইন্ডিয়ান প্লেট—এই সংযোগস্থলে দীর্ঘদিন ধরে চাপ জমে ছিল। আজকের কম্পনে সেই ‘লক’ খুলে গেছে।”

তিনি সতর্ক করে বলেন, “এই ঘটনায় বড় ধরনের ভূমিকম্পের সম্ভাবনা আরও বেড়ে গেল। ২০১৬ সাল থেকেই আমরা বলে আসছি, এখানে ৮ মাত্রার ভূমিকম্পের শক্তি জমা আছে। আজকের কম্পন সেই জমা শক্তির একটি ছোট অংশমাত্র।”

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুবাইয়াত কবির জানান, “ঢাকা ও আশপাশে কয়েক দশকের মধ্যে এটিই সবচেয়ে শক্তিশালী ও সর্বোচ্চ মাত্রার ভূমিকম্প।”

তিনি আরও বলেন, “দেশের বিভিন্ন স্থানে ৪ থেকে ৫ মাত্রার ছোটখাটো কম্পনও অনুভূত হয়েছে, যেগুলোর উৎপত্তিস্থল দেশের বাইরে। এই অঞ্চল ঐতিহাসিকভাবে ভূমিকম্প-ঝুঁকিপূর্ণ।”

তার মতে, বড় ভূমিকম্প যে কোনো সময় ঘটতে পারে, কিন্তু এর সময় নির্দিষ্ট করে বলা অসম্ভব।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসাইন ভূঁইয়া বলেন, বাংলাদেশ তিনটি বড় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলের খুব কাছে। তাই এখানে ভূমিকম্প হওয়া অবশ্যম্ভাবী।

তিনি ব্যাখ্যা করেন—

দেশের ভূগঠন নরম শিলা দিয়ে তৈরি
নিম্ন ফ্রিকোয়েন্সি ও উচ্চ অ্যাম্পলিচিউডের কম্পন ক্ষতি বাড়ায়
মাটির ও ভবনের কম্পাঙ্ক এক হলে ধ্বংসাত্মক প্রভাব পড়ে
তার মতে, প্রতিদিন বিশ্বে ৫০টির মতো ছোট ভূমিকম্প ঘটে; এক থেকে তিন মাত্রার কম্পন সাধারণত টের পাওয়া যায় না, কিন্তু চার বা তার বেশি হলে ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি দেখা দেয়।

উৎপত্তিস্থল মাধবদী, গভীরতা মাত্র ১০ কিলোমিটার

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়—

ভূমিকম্পের মাত্রা: ৫.৭
উৎপত্তিস্থল: নরসিংদীর মাধবদী (ঢাকা থেকে মাত্র ১৩ কিলোমিটার দূরে)
গভীরতা: প্রায় ১০ কিলোমিটার
তীব্রতা: স্মরণকালের মধ্যে অন্যতম বেশি
মাটির পৃষ্টে তীব্র কম্পন এবং অগভীর গভীরতার কারণে রাজধানীর অনেক ভবন দুলতে থাকে কয়েক সেকেন্ড।