• ১১ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২৮শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , ২৩শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

‘আমি কোনো গুম-খুনের সঙ্গে জড়িত না, আমি নির্দোষ’

bijoy71news
প্রকাশিত আগস্ট ১৬, ২০২৪
‘আমি কোনো গুম-খুনের সঙ্গে জড়িত না, আমি নির্দোষ’

আটক সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান বলেছেন, আমি কোনো গুম-খুনের সঙ্গে জড়িত না। আমি নির্দোষ, ন্যায়বিচার চাই।’ ‘গত ৭ আগস্ট রাতে ডিজিএফআইয়ের একটি দল আমাকে বাসা থেকে নিয়ে আসে। এরপর আট দিন ধরে বৃহস্পতিবার (১৫ আগস্ট) রাত পর্যন্ত আমাকে আয়নাঘরে রাখা হয়েছিল।

শুক্রবার (১৬ আগস্ট) বিকালে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরাফাতুল রাকিবের আদালতে রিমান্ড শুনানি চলাকালে বিচারককে এসব কথা বলেন জিয়াউল আহসান।

নিউমার্কেট থানার একটি হত্যা মামলায় শুক্রবার তাকে আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দশদিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। এসময় আসামিপক্ষের আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ এর বিরোধিতা করেন। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরাফাতুল রাকিব তার আটদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ড শুনানি চলাকালীন আদালতের অনুমতি নিয়ে জিয়াউল আহসান বলেন, ‘যেসব ব্যক্তি আয়নাঘর থেকে বের হয়ে আসছে, তাদের কেউ বলুক আমি তাদের সেখানে রেখেছি। যেভাবে আমাকে নিয়ে দোষারোপ করা হচ্ছে, সেটা সঠিক নয়। আমি অসুস্থ। আমার হার্টে ৭৫ শতাংশ ব্লক ধরা পড়েছে। এ ছাড়া শারীরিক অন্যান্য সমস্যাও রয়েছে।’

এসময় প্যাগাসাস সফটওয়্যারের বিষয়ে আদালত জানতে চাইলে জিয়াউল আহসান বলেন, ‘প্যাগাসাস বলে কিছু নেই। আমি মোবাইল ট্র্যাকিং করিনি। আমি নির্দোষ।’

এ সময় আদালতে জিয়াউলের কথা বলার বিরোধিতা করেন বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা। তারা বলেন, তিনি গণহত্যার আসামি। তার কথা বলার অধিকার নেই।

সচেতন নাগরিক হিসেবে মোহাম্মদ উল্লাহ্ খান জুয়েল নামে এক আইনজীবী আদালতে বলেন, আজ যে আয়নাঘরের উত্থান, এটার মূল কারিগর এই আসামি। দেশে যত গুম-খুন সংঘটিত হয়েছে তার নেপথ্যের মাস্টারমাইন্ড মেজর জিয়াউল।

আদালতে জিয়াউল আহসানের পক্ষে তার বোন অ্যাডভোকেট নাজনীন নাহার বলেন, আয়নাঘর সম্পর্কে সবাই জানেন। আয়নাঘর উনার সৃষ্টি— এটা সত্য নয়। আয়নাঘরে তিনি অলরেডি আটদিন থেকে এসেছেন। সেনাবাহিনীর কোনো কাজ করতে হলে প্রধানের অনুমতি নিতে হয়। তাই আসামিকে জামিন দেওয়ার জন্য আবেদন করছি। গত ৬ আগস্ট তিনি অবসর নিয়েছেন। ৭ আগস্ট থেকে তিনি আয়নাঘরে ছিলেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ঢাকার খিলক্ষেত এলাকা থেকে জিয়াউল আহসানকে আটক করা হয়। পরে রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় দোকান কর্মচারী শাহজাহান আলীকে (২৪) হত্যা মামলায় জিয়াকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় গত ১৬ জুলাই দোকান কর্মচারী শাহজাহান আলীকে হত্যার অভিযোগে তার মা আয়েশা বেগম (৪৫) মামলাটি করেন।

শুনানি শেষে আদালত জিয়াউল আহসানের ৮ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর কছেন।

মামলায় বলা হয়েছে, শাহজাহান আলী নিউমার্কেট থানার মিরপুর রোডের বলাকা সিনেমা হলের গলির মুখে পাপোশের দোকানে কাজ করত। প্রতিদিনের মতো গত ১৬ জুলাই সকাল ৯টার দিকে দোকানে কাজ করার জন্য আসে। ওই দিন সন্ধ্যায় মামলার বাদীকে অজ্ঞাতনামা একজন মোবাইল ফোনে কল দিয়ে জানায় যে, শাহজাহান আলী গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ধানমন্ডি পপুলার হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। সেখানে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, উন্নত চিকিৎসার জন্য শাহজাহানকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে গিয়ে ছেলের মরদেহ শনাক্ত করেন তিনি।

এর আগে গত ৬ আগস্ট মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কথা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায় আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।

জিয়ার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুম-খুনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। সেনাবাহিনী, র‌্যাব, এনএসআই হয়ে সর্বশেষ তিনি ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) মহাপরিচালকের (ডিজি) দায়িত্বে ছিলেন। সব জায়গায় তার প্রধান কাজ ছিল সরকারবিরোধীদের নজরদারিতে রাখা এবং ‘শায়েস্তা’ করা।

জিয়ার জন্যই প্রথমবারের মতো এনটিএমসির ‘মহাপরিচালক’ পদটি সৃষ্টি করা হয়। এনটিএমসি আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে ইন্টারসেপশন সহায়তা দিয়ে থাকে। এনটিএমসির সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, তদন্তকারী সংস্থাসহ ৩০টি সংস্থা সরাসরি সংযুক্ত। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তুঙ্গ মুহূর্তে দেশে ইন্টারনেট বন্ধে এই সংস্থার প্রধান জিয়াউল আহসানের ভূমিকা রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।