বিজয়৭১নিউজ ডেস্ক : মাদকদ্রব্য বহন, সেবন, বিপণন, মদতদাতা ও পৃষ্টপোষকতায় সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ এর খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
৮ অক্টোবর সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে চলতি বছরে মন্ত্রিসভার ২৮তম নিয়মিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। মন্ত্রিসভার বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
পরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের এ বিষয়ে ব্রিফ করেন।
তিনি বলেন, ‘কোনো ব্যক্তি ৫ গ্রাম পরিমাণের বেশি ইয়াবা বহন, সেবন, বিপণন, মদতদান ও পৃষ্ঠপোষকতা করে, তাহলে তার সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি দেয়া যাবে। তবে যদি এর পরিমাণ ৫ গ্রামের নিচে হয়, তাহলে সর্বনিম্ন শাস্তি ১ বছর এবং সর্বোচ্চ শাস্তি ৫ বছর কারাদণ্ড। এর সঙ্গে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা যাবে।’
তবে এ আইনে অর্থের পরিমাণ উল্লেখ নেই বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
তিনি বলেন, ‘হিরোইন, শিশা বা কোকেনের ক্ষেত্রে ২৫ গ্রামের বেশি বহন, সেবন, বিপণন, মদতদান ও পৃষ্ঠপোষকতা করলে তার ক্ষেত্রেও মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। যদি এর পরিমাণ ২৫ গ্রামের কম হয়, তাহলে সর্বনিন্ম শাস্তি রাখা হয়েছে ২ বছর আর সর্বোচ্চ শাস্তি ১০ বছর কারাদণ্ড। এর সঙ্গে অর্থদণ্ডও করা যাবে।’
এ আইনে মূলহোতা অর্থাৎ ব্যাপকভাবে ব্যবসায়িদেরও একই শাস্তির আওতায় আনা যাবে বলে জানান মোহাম্মদ শফিউল আলম।
ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনটি ১৯৯০ সালে প্রথম করা হয়। এখন আইনটি আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে।
আইনের সংজ্ঞা
ইয়াবা এবং সিসা বারের ক্ষেত্রে আইনে কোনো নির্দেশনা ছিল না। এই আইনে এসব বিষয় যুক্ত করা হয়েছে। এ আইনে মাদকদ্রব্য উৎস থেকে সংগ্রহ করে চূড়ান্ত গন্তব্য পর্যন্ত পরিবহনে সংশ্লিষ্টদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা যাবে।
এ আইনের ধারা ২৪- এ বিয়ারের যে সংজ্ঞা ছিল তা কিছুটা পরিবর্তন করে হালনাগাদ করা হয়েছে। এখানে বলা হয়েছে, ‘অ্যালকোহল’ অর্থ স্পিরিট এবং যে কোনো ধরনের মদ, ওয়াইন, বিয়ার বা ০.২% (দশমিক দুই শতাংশ)- এর অধিক অ্যালকোহলযুক্ত যে কোনো তরল পদার্থ এর অন্তর্ভুক্ত হবে।
সেবনকারীর সংজ্ঞা
সেবনকাবীর অর্থ হবে, শারীরিকভাবে বা অভ্যাসবসে মাদকের ওপর নির্ভরশীল কোনো ব্যক্তি মাদকদ্রব্য বহনকারী বা সেবনকারীকে মাদকদ্রব্য সেবনকারী হিসেবে এ আইনে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।
সিসার সংজ্ঞা
আইনের ৩৮ ধারায় সিসার সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, বিভিন্ন ধরনের ভেজসের নির্যাস সহযোগে ০.২ শতাংশের ঊর্ধ্বে নিকোটিন এবং এসএস কার্নেল মিশ্রিত যে কোনো পদার্থকে সিসা বলা যাবে।
আইনে লাইসেন্সের বিধান
এই আইনের ১১ ধারায় লাইসেন্সের বিধান সম্পর্কে বিস্তারিত বলা হয়েছে। কেউ যদি বার বা মদের দোকান চালাতে চায় তাহলে তার জন্য লাইসেন্সের প্রয়োজন হবে।
এ বিষয়ে আইনের ১৩ ধারায় বলা হয়েছে, লাইসেন্স ছাড়া যদি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এ আইনের অধীন প্রবর্তন কোনো লাইসেন্স, পারমিট অথবা ধারা ৫ এর শর্ত ভঙ্গ করলে তার জন্য শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। সেক্ষেত্রে অনূর্ধ্ব ১ লাখ টাকা আদায় করার পর তার কাছ থেকে একটি লিখিত নিতে হবে এই মর্মে যে তিনি আর এ ধরনের কাজে যুক্ত হবেন না। এরপর তা বিচারক নিষ্পত্তি করতে পারবে।
বি৭১নি/জেএ/বিনিডে