• ১৬ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ , ৩রা বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ৭ই শাওয়াল, ১৪৪৫ হিজরি

উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী হতে সহজ হলো বিধান

bijoy71news
প্রকাশিত মার্চ ১৫, ২০২৪
উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী হতে সহজ হলো বিধান

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে ভোটারদের সমর্থনসূচক স্বাক্ষর জমা দেওয়ার বিধান বাতিল করে নির্বাচন বিধিমালা সংশোধন চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন। একই সঙ্গে নির্বাচনে রঙিন পোস্টার ও ব্যানারের ব্যবহার সুযোগ দিয়ে এ নির্বাচনের আচরণ বিধিমালায় সংশোধন করেছে।

বৃহস্পতিবার (১৪ মার্চ) পৃথক এ দুই বিধিমালা এসআরও নম্বর জারি করতে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। দু-একদিনের মধ্যে এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ হতে যাচ্ছে। এরপরই প্রথম ধাপে ১৫৩ উপজেলার তফশিল ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন। ইসি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ এ বিধিমালা দুটি আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর বিষয় নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, সংশোধিত নির্বাচন ও আচরণবিধিমালা ভেটিং হয়ে ইসিতে এসেছে। আমরা যা দিয়েছিলাম সেগুলোই চূড়ান্ত করা হয়েছে। এখন শুধু এসআরও নম্বর জারি হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল দেশে ফেরার পর উপজেলা নির্বাচনের তফশিল ঘোষণা হতে পারে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীকে প্রার্থী মনোনয়ন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের উপনির্বাচন এবং ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী দেয়নি দলটি। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী না দেওয়ার ঘোষণার পরই ইসিও এসব নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার বিধান শিথিল করার উদ্যোগ নেয়। এরই অংশ হিসাবে নির্বাচনি বিধিমালায় সংশোধনী চূড়ান্ত করা হলো।

জানা যায়, নির্বাচন বিধিমালায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে ভোটার সমর্থনসূচক স্বাক্ষর জমা দেওয়ার বিধান বাতিল করা হয়েছে। তবে ভুঁইফোঁড় প্রার্থী ঠেকাতে জামানতের পরিমাণ বাড়িয়ে এক লাখ টাকা করা হয়েছে। প্রদত্ত ভোটের ১৫ শতাংশ ভোট না পেলে ওই প্রার্থীর জামানত বাতিল হবে। বর্তমানে প্রদত্ত ভোটের ১২.৫ শতাংশের কম ভোট পেলে জামানত বাজেয়াপ্ত হয়।

এছাড়া জাতীয় সংসদের মতো উপজেলা নির্বাচনের ফলাফল স্থগিত বা বাতিলের ক্ষমতা ইসির হাতে রাখা হয়েছে। কোনো ভোটকেন্দ্রে বল প্রয়োগ, ভয়ভীতি দেখানো বা কারসাজির কারণে ফলাফল পক্ষাপাতদুষ্ট মনে হলে ওই ফলাফল স্থগিত করে পুনরায় ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্ত দিতে পারবে ইসি। বিদ্যমান উপজেলা পরিষদ আইন ও বিধিমালায় এ অভিযোগে ফল বাতিলে এমন ক্ষমতা ইসির নেই। জাতীয় সংসদের মতো উপজেলা পরিষদ নির্বাচনেও ভোটকেন্দ্রে অনিয়ম হলে ভোটগ্রহণ কার্যক্রম স্থগিত বা বাতিলে প্রিসাইডিং কর্মকর্তার ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। এবার শুধু অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

এছাড়া নির্বাচন আচরণ বিধিমালায় প্রতীক বরাদ্দের আগে মনোনয়নপত্র দাখিলের পর থেকে সর্বোচ্চ ৫ জন লোক নিয়ে জনসংযোগ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। পোস্টারে পলিথিনের আবরণ এবং প্লাস্টিক ব্যানার ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। শব্দদূষণ কমানোর লক্ষ্যে মাইকের সাউন্ড ৬০ ডেসিবেলের নিচে রাখার বিধান আরোপ করা হয়েছে। সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে পোস্টারে। এখন থেকে প্রার্থীরা চাইলে রঙিন পোস্টার ও ব্যানার ব্যবহার করতে পারবেন। এছাড়া নির্বাচনি প্রচারণায় একটির অধিক শব্দযন্ত্র (হর্ন) বা জনসভায় চারটির অধিক শব্দযন্ত্র (হর্ন) ব্যবহার করা যাবে না।

প্রসঙ্গত, এবার প্রথম ধাপে ৪ মে ১৫৩টি, দ্বিতীয় ধাপে ১১ মে ১৬৫টি, তৃতীয় ধাপে ১৮ মে ১১১টি এবং চতুর্থ ধাপে ২৫ মে ৫২টি উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।