• ১২ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২৯শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , ২৪শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

হেমন্তের সকালে প্রানবন্ত শাবি, প্রাতভ্রমণে বৈচিত্র

bijoy71news
প্রকাশিত ডিসেম্বর ৬, ২০২৩
হেমন্তের সকালে প্রানবন্ত শাবি, প্রাতভ্রমণে বৈচিত্র

হেমন্তের সকাল। শিশির ভেজা ঘাসের ছোঁয়ায় হল থেকে রওনা দিয়েছি। কুয়াশ্ছন্ন আবহাওয়ায় হালকা ঠাণ্ডা। ক্যাম্পাসের পথ ধরে হাঁটতে শুরু করলাম। পথটা বেশ ব্যস্ত মনে হল। ৩২০ একরের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ পিচঢালা সড়কের সকলটা একটু ব্যতিক্রম। যানবাহন না থাকলেও ভোরের পাখির ন্যায় প্রাতভ্রমণকারীদের সমাগমে প্রানবন্ত হয়ে উঠেছে এ সড়ক।

 

জন উপস্থিতি থাকলেও চারপাশে কেমন যেন সুনসান নিরবতা। প্রাতভ্রমণকারীদের যেন এক দারুণ ব্যস্ততা। কেন্দ্রীয় মিলনায়তন পেরিয়ে বাস্কেটবল গ্রাউণ্ডে এগিয়ে গেলাম। এখানে দেখছি কিশোর থেকে বৃদ্ধ সকল বয়সীরা শরীরচর্চায় ব্যস্ত।

শারীরিক ফিটনেস ধরে রাখার পাশাপাশি একটি সুন্দর সোনালী দিন শুরু করতে এ আয়োজন তাদের। তা অনুধাবন করে রাস্তা ধরে এগিয়ে চলছি মূল ক্যাম্পাসের দিকে। হাঁটছি আর ভাবছি, ‘ভোরের হিমেল হাওয়া কতই না নিরাপদ!ইট পাথরের নগরী ব্যস্তময় সড়কের ধুলাবালি কিভাবে গ্রহণ করছে! তাই কি দিন দিন দূষণের দারপ্রান্তে যাচ্ছে শহর! সুস্থ মানুষগুলো কি অসুস্থ হয়ে যাবে না এ কারণে! দৃষ্টিতে নেমে আসে আবছায়া।

 

হেঁটে এগিয়ে চলছি। দলবেধে, কেউবা একা কিংবা যুগলরা হাঁটছেন একই পথে। কেউ রোগে ভারাক্রন্ত, কেউ ফিটনেস ধরে রাখতে হাঁটছেন। ক্ষণে ক্ষণে দৌড়াচ্ছেন কেউ। একসাথে জগিং করছেন এমন পরিবারেরও দেখা মিলে।

ক্যাম্পাসে প্রাতভ্রমণকারীদের অধিকাংশই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা- কর্মচারী। শহর থেকেও আসেন অনেকে। মূল ফটক থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাব পর্যন্ত সকালের প্রাতভ্রমণে দেখা মিলে তাদের। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হেমন্তের মিষ্টি রোদের দেখা মিলে। তখন প্রাতভ্রমণকারীদেরও সময় ঘনিয়ে আসে। ক্যাম্পাসে বাড়ে তখন শিক্ষার্থীদের আনাগোনা। চলে ক্লাস-পরীক্ষা কার্যক্রম।

এদিকে, ভোরের প্রাতভ্রমণের গুরুত্ব বিষয়ে পূর্বে কথা হয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ডা. মো. হাবিবুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি জানিয়েছিলেন, ডায়াবেটিস ও উচ্চরক্তচাপ প্রতিকারে সকালের শরীরচর্চা বড্ড উপকারী। এটি পেশী সুগঠিত করে, শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সুরক্ষিত ও হজমে সাহায্য করে। মস্তিষ্ককেও সতেজ রেখে বার্ধক্য প্রতিরোধ করে। তাছাড়া হাঁটার ফলে মানুষের চিন্তার সৃজনশীলতা বৃদ্ধি পায়, মেজাজ ভালো রাখে, মানসিক চাপ কমায় ও বিষন্নতা দূরীকরণে সাহায্য করে থাকে।

কথা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রেজোয়ানা হকের সঙ্গে। নিয়মিতই প্রাতভ্রমণে বের হন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যতসম্ভব রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়ি। ভোরের এই মনোরম পরিবেশ উপভোগ করতে চলে আসি। এতে শরীরের যেমন ব্যায়াম হয়, তেমনি ফুরফুরে মন ও মেজাজ কাজ করে। তাছাড়া হাঁটার জন্য ক্যাম্পাসে এখন একটি সুন্দর ওয়াকওয়ে আছে। এ ছাড়া এখন জিমনেশিয়ামও সকাল সকাল খোলা থাাকে। তাই ব্যায়াম করার জন্য এত সুন্দর সকাল মিস করতে চাই না।’

 

সকালে হাঁটা ও ব্যায়াম কার্যকরী করতে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে দুইটি সংগঠনও রয়েছে। এর মধ্যে শাহজালাল ইউনিভার্সিটি এক্টিভ রানার্সের পরিচালক হিসেবে রয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার মো. আলমগীর হোসেন। কথা হলে তিনি বলেন, ‘আমাদের সংগঠনের সদস্যভুক্ত সবাই রানার্স। সকালের শরীর চর্চার জন্য আমরা মাসব্যাপি বিভিন্ন ধাপে ড্রিল সেট করি। যেমন শক্তি প্রশিক্ষণ, দৌড় ড্রিল, বাম শক্তি অনুশীলন, বিরতি দৌড়, টেম্পো দৌড়, সহজ দৌড়, হাফ ম্যারাথন ইত্যাদি ধাপে সিডিউল অনুযায়ী আমরা এসব স্টেপ সম্পন্ন করি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ে আর্লি বার্ড ফিটনেস ক্লাব নামে আরেকটি সংগঠনের উপদেষ্টা শারীরিক শিক্ষা দপ্তরের উপ-পরিচালক মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ক্লাবটি মূলত বিশ্ববিদ্যালয় বহির্ভূত একটি গ্রুপের ছিল। এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতি সাপেক্ষে এটি শিক্ষার্থী ও তাদের সমন্বয় খোলা হয়েছে।’’ এখানে নিয়মিত শরীরচর্চা হয় বলে জানান তিনি।