• ১১ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২৮শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , ২৩শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

সক্রিয় নেতাদের টার্গেট করছে সরকার, অভিযোগ বিএনপির

bijoy71news
প্রকাশিত নভেম্বর ১২, ২০২৩
সক্রিয় নেতাদের টার্গেট করছে সরকার, অভিযোগ বিএনপির

রাজধানীতে বিএনপির সিনিয়র নেতাদের গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত রেখেছে পুলিশ। প্রায় প্রতিদিনই কেন্দ্রীয় নেতাদের বাসায় চালানো হচ্ছে অভিযান। ইতোমধ্যে বিএনপির বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতাসহ সারাদেশে শতাধিক সিনিয়র নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, নেতাদের না পেয়ে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে পরিবারের সদস্য, ব্যক্তিগত সহকারী, গাড়িচালক এবং কেয়ারটেকারকে।

চলমান এ অভিযানে সবচেয়ে করুণ অবস্থায় রয়েছে দলটির স্থায়ী কমিটি। সক্রিয় সদস্যদের মধ্যে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মির্জা আব্বাস, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী কারাগারে। বাকি সক্রিয় যারা ছিলেন তাদের মধ্যে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও নজরুল ইসলাম খান আত্মগোপনে আছেন। খন্দকার মোশাররফ হোসেন, রফিকুল ইসলাম মিয়া এবং ব্যারিস্টার জমিরউদ্দীন সরকার শারীরিকভাবে অসুস্থ। ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু দীর্ঘদিন দেশের বাইরে রয়েছেন। আরেক সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদও কয়েকবছর যাবত রয়েছেন ভারতের শ্রিম্লায়। আব্দুল মঈন মাঝে মাঝে গণমাধ্যমে বিবৃতি দিলেও রাজপথে সরব উপস্থিতি নেই তার। সেলিমা রহমানের সঙ্গেও যোগাযোগ নেই তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে।

বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, বেছে বেছে সক্রিয় নেতাদের টার্গেট করছে সরকার। এ বিষয়ে বিএনপির এক যুগ্ম মহাসচিব বলেন, স্থায়ী কমিটিতে যারা রাজপথে বেশি সক্রিয় তাদেরকেই আটক করছে পুলিশ। এমনকি কেন্দ্রীয় কমিটিতেও যারা সক্রিয় তাদের বিরুদ্ধেই কঠোর অবস্থানে সরকার।

মূলত ১৮ অক্টোবরের নয়াপল্টনে বিএনপির জনসভাকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের হিরিক শুরু হয়। ১৭ অক্টোবর গভীররাতে আটক করা হয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস দুলু, তাঁতী দলের আহ্বায়ক আব্দুস সালাম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুস সাত্তারকে। এছাড়া সেদিন সারাদেশে বিএনপির ৪১৬ জন নেতাকর্মীকে আটক করা হয়। এরপর ২৮ অক্টোবর সরকারের পতন আন্দোলনের চূড়ান্ত কর্মসূচির অংশ হিসেবে মহাসমাবেশের ডাক দেওয়া হলে শুরু হয় সক্রিয় সিনিয়র নেতাদের গ্রেপ্তারের হিড়িক। যদিও সরকার বলছে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই তাদের আটক করা হচ্ছে।

২৮ অক্টোবরের মহাসমাবেশের আগেই গ্রেপ্তার হয়ে কারাবন্দি আছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক সালাউদ্দিন আহমেদ, কেন্দ্রীয় নেতা শেখ রবিউল আলম রবি, তাঁতী দলের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব রফিকুল আলম মজনু, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন, যুবদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুল আলম নিরব, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আবদুল মোনায়েম মুন্না, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা শাহিন, যুবদলের সাবেক সহসভাপতি আলী আকবর চুন্নু ও নরসিংদী জেলা ছাত্রদল সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান নাহিদ।

২৮ অক্টোবরের সহিংসতার পর থেকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান আলতাব হোসেন চৌধুরী, শাহজাহান ওমর, শামসুজ্জামান দুদু, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, মুজিবুর রহমান সারোয়ার, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্য সচিব আমিনুল হক, মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন স্বপন, সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শরিফুল আলম, মহানগর দক্ষিণের যুগ্ম আহ্বায়ক ইউনুস মৃধা, মনির চেয়ারম্যান, ঢাকা মহানগর উত্তরের যুগ্ম আহ্বায়ক গোলাম মোস্তফা, যুবদলের সহ-সভাপতি রেজাউল করিম পল, ১২ দলীয় জোটের সমন্বয় সৈয়দ এহসানুল হুদা, যুবদল ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্য সচিব সাজ্জাদুল মিরাজ, স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি ডা. জাহিদুল কবির, সিরাজগঞ্জ জেলা ড্যাবের সদস্য সচিব ডা. আতিকুল আলম, সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজের ৩৩তম ব্যাচের সাবেক ছাত্র জাতীয়তাবাদী চিকিৎসক ডা. এম এ আজিজসহ ছাত্রদল ও যুবদলের অনেক সিনিয়র নেতাদের আটক করা হয়।

এদিকে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুস সালাম, আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন, যুবদলের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকুসহ অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের আটকের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আটক করা হয়েছে সালামের ব্যক্তিগত সহকারী সেলিম, ইঞ্জিনিয়ার ইশরাকের ছোট ভাই ইশফাককে। এছাড়াও বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের অনেক নেতাকে না পেয়ে তাদের পরিবারের সদস্যসহ নিকট আত্মীয়দের পুলিশ আটক করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টুর ছোট ছেলেকে তার বাসভবন থেকে আটক করে পুলিশ। তবে কয়েকঘণ্টার মধ্যে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

গ্রেপ্তার থেকে রেহাই পাচ্ছেন না জেলার শীর্ষ নেতারাও। আটক করা হয়েছে নারায়ণগঞ্জ মহানগর সাধারণ সম্পাদক আবু আল ইউসুফ খান টিপু, গাজীপুরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী সায়েদুল আলম বাবুল, হবিগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক জিকে ঘোস, নরসিংদী জেলার সদস্য সচিব মঞ্জুর এলাহী, দিনাজপুর জেলা বিএনপির সভাপতি মোফাজ্জল হোসেন দুলাল, গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুন্নবী টিটুল, রংপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক শামসুজ্জামান সামু, সদস্য সচিব মাহফুজ উন নবী ডন, নড়াইল জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম, খুলনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আমির এজাজ খান, খুলনা মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী মাহমুদ আলী, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাইদ চাঁদ, কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সভাপতি, সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, পিরোজপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব গাজী অহিদুজ্জামান লাভলু, বরিশাল দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবুল হোসেন খান, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান খান, নগর বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আলী হায়দারসহ অসংখ্য জেলার শীর্ষনেতাদের আটক করা হয়েছে।

অপরদিকে গ্রেপ্তার এড়াতে বেশির ভাগ সিনিয়র নেতা গা ঢাকা দিয়ে আছেন। কেউই নিজ বাসায় থাকছেন না। শুধু কেন্দ্রীয় নেতা নন, জেলা উপজেলা পর্যায়ের কর্মীদেরও বাড়িতে থাকা হারাম হয়ে গেছে।

গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় জুমে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানান, গত ২৮ ও ২৯ জুলাই হতে অদ্যাবধি বিএনপির ১৩৩৮৬ জন নেতাকর্মী গ্রেপ্তার, মামলা ৬১৩টি, আসামী ৪৮৪৪৩ জন, মোট আহত ৫৯৯৭ এবং নিহত হয়েছেন একজন সাংবাদিকসহ ১২ জন।