মাছ আমাদের প্রাণিজ আমিষের অন্যতম উৎস। কর্মসংস্থান, বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জন এবং পুষ্টি সরবরাহে মাছের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে। কোনো নির্দিষ্ট জলাশয়ে পরিকল্পিত উপায়ে স্বল্পপুঁজি, অল্পসময় ও লাগসই প্রযুক্তির মাধ্যমে মাছের বিভিন্ন নিয়ম মেনে প্রাকৃতিক উৎপাদনের চেয়ে অধিক মাছ উৎপাদনই মাছ চাষ। আমাদের দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় মাছ হচ্ছে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। মাছের অনেক চাহিদা থাকার কারণে মাছ চাষ করে ভালো আয় করা সম্ভব। স্থানীয় হাট, বাজার ছাড়াও দূরবর্তী বাজারে মাছ বিক্রি করে লাভ করা সম্ভব।
বেকারত্ব দুর করতে মাছ চাষের বিকল্প নেই। এই ধারণা থেকেই সুনামগঞ্জ জেলার শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাথারিয়া ইউনিয়নের গনিগঞ্জ গ্রামের যুবক মৃত হানিফ উল্লা তালুকদারের ছেলে তোফায়েল আহমদ সহ আরো চার তরুণ মিলে চলতি বছরে প্রায় ৩ একর জমিতে মাছ চাষ করেন। এর আগের বছরও তারা এই ৩ একর জমিতে মাছ চাষ করেছিলেন। গত বছরের বন্যায় কারণে লাভবান না হয়ে প্রায় ৫ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হলেও থেমে থাকেননি তারা। ক্ষতি পুষিয়ে লাভবান হওয়ার আশায় এ বছর আবারও এই উদ্যমী তরুণেরা ২ একর জমিতে মনোসেক্স প্রজাতের তেলাপিয়া,কার্প জাতের মাছ মিশ্র চাষ এবং ১ একর জমিতে সিং মাগুর মাছ চাষ করেছেন। তারা আশাবাদী গত বছরের দুঃখ গুছাতে সক্ষম হবেন তারা। শুধু এই তরুণরাই নয় বেকারত্ব দূর করতে মাছ চাষে ঝুকছেন উপজেলার আরও অনেকে।
কথা হলে তরুন উদ্যোক্তা তোফায়েল আহমেদ বলেন, এই বছর অনুকুল আবহাওয়া, ও আগাম বন্যা না হওয়ায় মাছ চাষে বাম্পার ফলন হয়েছে। ইনশাআল্লাহ সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে এ বছর ১০ লক্ষ টাকার মাছ বাজারজাত করতে পারব। আমরা আশাবাদী গত বছরের লোকসান কাটিয়ে এ বছর লাভবান হতে পারব। বেকারত্ব দুর করণের এই উদ্যোগে সরকারী সহযোগিতা কামনা করেন তারা।
এ ব্যাপারে শান্তিগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন বলেন, বেকারত্ব দূরীকরণে তাদের উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। আমরা উপজেলার ০৮ ইউনিয়নের মৎস্যচাষীদের বিভিন্ন সময় মাছ চাষের উপর প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকি তারা যাতে অল্প খরচে মৎস্য চাষে বেশি লাভবান হন।