• ১২ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২৯শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , ২৪শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

আমি বলি এটা কোনো ম্যাজিক নয়, ম্যাজিক হচ্ছে দেশপ্রেম: প্রধানমন্ত্রী

bijoy71news
প্রকাশিত মার্চ ১৬, ২০২১

বি৭১নি ডেস্ক ::
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে আমাদের নিজের পায়ে চলতে হবে। নিজেদের অর্থায়নে কাজ করতে হবে। আমরা আমাদের দেশকে উন্নত করব, এটাই আমাদের লক্ষ্য। আর সে লক্ষ্য বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমাদের অনেক কাজ করার দরকার আছে।
সোমবার সকালে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি ‘বাংলাদেশ অবকাঠামো উন্নয়ন তহবিল (বিআইডিএফ)’-এর উদ্বোধন এবং এই তহবিল থেকে ‘পায়রাবন্দরের রাবনাবাদ চ্যানেলের ক্যাপিটাল ও মেইনটেন্যান্স ড্রেজিং’ স্কিমে অর্থায়নের লক্ষ্যে ত্রিপক্ষীয় ঋণচুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি এ কথা বলেন। দক্ষিণ এশিয়া এমনকি বিশ্বে বিআইডিএফ হচ্ছে প্রথম প্রকল্প, যার মাধ্যমে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন করা যাবে। প্রধানমন্ত্রী অতীতের সরকারগুলোর পরনির্ভরশীলতার সমালোচনা করে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের চিন্তা হলো স্বাবলম্বী হয়ে আত্মমর্যাদা নিয়ে চলা। গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত মানুষকে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলা। সেজন্য বাংলাদেশ অবকাঠামো উন্নয়ন তহবিল গঠন করলাম।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘করোনাভাইরাসের কারণে আমাদের জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়ে। এ সময় আমরা অনেককে হারিয়েছি। করোনায় আমরা আরেকটি বিষয় দেখতে পাচ্ছি, আমাদের রিজার্ভ বৃদ্ধি পেয়েছে, রেমিট্যান্স বৃদ্ধি পেয়েছে। এই রিজার্ভের টাকা কীভাবে উন্নয়নে ব্যয় করতে পারি, সেটাই চিন্তা করছি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বারবার অন্যের কাছে হাত পাতা, আর ধার না করে নিজেদের অর্থ দিয়ে নিজেদের অবকাঠোমো উন্নয়ন করা এবং যারা বিনিয়োগ করতে আসবে তাদের ঋণ নেওয়ার বিষয়টি আমরা নিজেদের অর্থ থেকে ব্যয় করতে পারি। তাতে দেশেরও লাভ, আমাদেরও আত্মবিশ্বাস জন্মাবে। আমরা যে পারি, বিশ্বের কাছে তা দেখাতে পারি।’
দুর্যোগ-দুর্বিপাকের দেশ বিধায় যে কোনো সংকটের জন্য প্রস্তুত থাকার প্রয়োজনীয়তার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের ৬ মাসের আমদানির টাকা রাখতে হবে। যে কোনো সংকটে খাদ্য ক্রয় যেন করতে পারি। ছয় মাসের টাকা রিজার্ভে রেখে বাকি টাকা বিনিয়োগ করতে পারি। এজন্য আমরা নিজস্ব তহবিল গঠন করার চিন্তা করেছি। এ থেকে বিনিয়োগকারীরা ঋণ নিতে পারবে। আর অবকাঠামো উন্নয়নে বিনিয়োগ করব।’
নিজস্ব উদ্যোগেই পায়রাবন্দর প্রতিষ্ঠার বিষয়টি তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘পায়রাবন্দর আমি নিজেই করছি। মংলা বন্দর চালু করেছি। মহেশখালীর মাতারবাড়ী বন্দর তৈরি হয়ে গেছে। সেটা আরও উন্নত হবে। আমাদের একটা গভীর সমুদ্রবন্দরও করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশের কতগুলো সুবিধা রয়েছে। ভারত, নেপাল ও ভুটানকে আমাদের বন্দরগুলো ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছি। আরও অনেক দেশও ব্যবহার করতে পারবে।’
শেখ হাসিনা তার উন্নয়নের ম্যাজিক সম্পর্কে বলেন, ‘আমি বলি, এটা কোনো ম্যাজিক নয়। ম্যাজিক হচ্ছে দেশপ্রেম। দেশ ও দেশের মানুষের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধ। আমার চিন্তা দেশের মানুষকে দুপায়ে দাঁড় করিয়ে তাদের স্বাবলম্বী করে তোলা।’
সরকারপ্রধান বলেন, বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেতে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির (সিডিপি) চূড়ান্ত সুপারিশ পেয়েছে। মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে আমাদের নিজের পায়ে চলতে হবে। এজন্য অন্যের কাছে হাত না পেতে নিজেরা উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থায়ন করব। দেশি-বিদেশি যারাই বিনিয়োগ করতে আসুক, আমরা নিজেরা অর্থায়ন করব।
অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির বক্তৃতা করেন। গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন।
এর আগে পায়রাবন্দরের ওপর নির্মিত একটি ভিডিও ডকুমেন্টারি উপস্থাপন করা হয়। পাশাপাশি দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির বর্তমান অবস্থা নিয়ে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন দেন অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব আবদুর রউফ তালুকদার।
প্রধানমন্ত্রীকে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল উপহার চীনা দূতাবাসের : জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং দেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে পিতলের তৈরি একটি বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল প্রধানমন্ত্রীকে উপহার দিয়েছে চীনা দূতাবাস। ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত লি জিমিং গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ম্যুরাল তুলে দেন। এ সময় চীনের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশকে এক লাখ ডোজ করোনার টিকা দিতে আগ্রহ ব্যক্ত করেন। তিনি চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দেন।
প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল দেওয়ার জন্য চীনা দূতাবাসের প্রশংসা করেন। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
ক্লিন এনার্জি খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সুইডেন : সুইডেনের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগিতা মন্ত্রী পের ওলসন ফ্রিধ জানিয়েছেন, তার দেশ বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে বিশেষ করে ক্লিন এনার্জিতে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে গণভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে তিনি এ ইচ্ছার কথা জানান।
এ সময় সুইডেনের মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে বাংলাদেশের চমকপ্রদ উন্নয়নের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, তার দেশ বাংলাদেশের উন্নয়নে সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে চায়। ফ্রিধ বাংলাদেশের সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে তার দেশের অংশীদারিত্বে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস এবং ঢাকায় নিযুক্ত সুইডেনের রাষ্ট্রদূত আলেকজান্দ্রা বার্গ ভন লিন্ডা উপস্থিত ছিলেন।