বি৭১নি ডেস্ক ::
করোনা মহামারির সংকট মোকাবিলায় সফল হয়েছে বাংলাদেশ। বিশ্বের অনেক দেশ অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হলেও এ খাতে বিপর্যস্ত হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ অর্থনীতি সচল রেখে কোভিড-১৯ সংকট মোকাবিলায় সক্ষম হয়েছে। এটি সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রজ্ঞা, দূরদর্শী ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বের কারণেই।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) ‘২০১৯-২০ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদনের বিশেষ পর্যালোনায়’ বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। সম্প্রতি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) বৈঠকে প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করা হয় প্রধানমন্ত্রীর সামনে।
এ প্রসঙ্গে আইএমইডি’র সচিব প্রদীপ রঞ্জন চক্রবর্তী বলেন, দেশের ইতিহাসে ২০১৯-২০ অর্থবছর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যময় অধ্যায়। কোভিড-১৯ বৈশ্বিক মহামারি বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। ফলে এ দেশের বিকাশমান অর্থনৈতিক ব্যবস্থাও এক কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। গত বছরের ৮ মার্চ দেশে করোনা রোগী শনাক্ত হয়। এর বিস্তার রোধে ২৭ মার্চ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত দীর্ঘ ৬৬ দিন দেশব্যাপী সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল। এ ছুটিসহ করোনাকালীন দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ব্যাপকভাবে প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করেছে।
প্রতিকূলতা সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ তার উন্নয়ন ও কল্যাণ যাত্রা অব্যাহত রেখেছে। এ প্রেক্ষাপটে বিশেষ পর্যালোচনাটি যুক্ত করা হয়েছে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনার মূল প্রতিবেদনের সঙ্গে।
আইএমইডির পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, গত এক দশকে গড়ে ৬ দশমিক ৬ শতাংশ ও পরপর তিন বছর ৭ শতাংশের ওপর জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করে বাংলাদেশ। এর পর ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৮ দশমিক ১৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছিল প্রবৃদ্ধি। জিডিপি প্রবৃদ্ধির এই ধারাবাহিকতা বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়। কিন্তু কোভিড-১৯ এর কারণে সারা বিশ্বের মতো দেশের অর্থনীতিতেও বিরূপ প্রভাব পড়ে।
সাময়িক হিসাবে ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি কমে দাঁড়ায় ৫ দশমিক ২৪ শতাংশে। তবে একই সময়ে মাথাপিছু জিডিপিতে অগ্রগতি হয়েছে। আগের অর্থবছরের তুলনায় ৭ দশমিক ৭৭ শতাংশ বেড়ে মাথাপিছু জিডিপি দাঁড়িয়েছে ১৯৭০ মার্কিন ডলারে। ওই সময়ে মাথাপিছু জাতীয় আয় ৮ দশমিক ১২ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ২০৬৪ মার্কিন ডলার।
পর্যালোচনায় আরও বলা হয়েছে, কোভিড-১৯ মহামারি সত্ত্বেও ২০১৯-২০ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ছিল মাত্র ৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ। বাজেট ঘাটতিও ধারণযোগ্য পর্যায়ে রয়েছে। সাময়িক হিসাব অনুযায়ী ওই অর্থবছরে বাজেট ঘাটতি ছিল জিডিপির ৫ দশমিক ৫ শতাংশ। সরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি করে জিডিপির ৮ দশমিক ১ শতাংশে উন্নীত হলেও বাজেট ঘাটতি সীমিত রাখা সম্ভব হয়েছে। এছাড়া সরকারি ঋণ জিডিপির অনুপাত মাত্র ৩৫ দশমিক ৭ শতাংশ। দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়টি উন্নয়ন সহযোগীসহ আন্তর্জাতিক মহলে সমাদৃত হয়েছে।
দ্য ইকোনমিস্টের ২০২০ সালের ২ মে সংখ্যায় প্রকাশিত এক গবেষণামূলক প্রতিবেদনে ৬৬টি উদীয়মান সবল অর্থনীতির দেশের তালিকায় বাংলাদেশের নাম নবম স্থানে রাখা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০২০ সালে সবচেয়ে বেশি জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করা শীর্ষ দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয়। সরকারের নানা উদ্যোগের ফলে করোনার প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে রেখে মৃত্যু হার সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখা সম্ভব হয়েছে। করোনা নিয়ন্ত্রণে ভ্যাকসিন আমদানিতেও এ দিয়ে আছে দেশ।
আইএমইডির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ৫৮টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ ২০১৯-২০ অর্থবছরে মোট বরাদ্দের ৮০ দশমিক ৩৯ শতাংশ অর্থ ব্যয় করতে পেরেছে। বিশেষ পর্যালোচনায় আরও বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী কোভিডকালে অনলাইনে একনেক সভা করে নিয়মিত উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তদারকিসহ মহামারি মোকাবিলায় বিশেষ প্রকল্পের অনুমোদন দেন। তার কার্যকর মনিটরিংয়ের ফলে ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্পগুলোর কাজও পূর্ণোদ্যমে এগিয়ে চলছে।