সম্প্রতিক সময়ে ত্রাণ চুরিসহ বিভিন্ন ঘটনায় বিএনপি-জামাত, ছাত্রদল-ছাত্রশিবির থেকে অনুপ্রবেশকারীরাই জড়িত বলে মনে করছেন সিলেট মহানগর যুবলীগের সাবেক সিনিয়র সদস্য জাকিরুল আলম জাকির। মহানগর ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা এ সদস্য তার ফেসবুক আইডিতে একটি স্ট্যাটাস দিয়ে এদের ব্যাপারে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। বিজয়৭১নিউজডটকমের পাঠকদের জন্য স্ট্যাটাস হুবুহু তুলে ধরা হলো
আসুন একটু হিসেব মিলিয়ে দেখি ঘটনাটা কি??? খেয়াল করুন – এমপি ৩৫০ জন, পৌর মেয়র ৩৩০ জন, উপজেলা চেয়ারম্যান ৪৯২ জন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পুরুষ ও মহিলা ৯৮৪ জন, ইউপি চেয়ারম্যান ৪৫৭১, ইউপি মহিলা মেম্বার ১৩৭১৩, ইউপি পুরুষ মেম্বার ৪১১৩৯ মোট জনপ্রতিনিধি মোট ৬১৫৭৯ জন। লক্ষ্য করুন – চাল চুরির ঘটনায় সম্পৃক্ত এসব জনপ্রতিনিধি বেশিরভাগ বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশ করেছে – ১০ জন চাল চোর (ইউপি চেয়ারম্যান) ধরা পড়েছে,১০ জন চোরের মধ্যে ইতিমধ্যে ৩ জন বরখাস্ত হয়েছে, বাকিগুলোর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আরেকটা বিষয় খেয়াল করুন – জাতির এই দুঃসময়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে কাজ করছেন, আওয়ামী লীগসহ অঙ্গসহযোগী সংগঠন দেশরত্ন শেখ হাসিনার নির্দেশে কাজ করছে অত্যন্ত আন্তরিক ভাবে,অনেক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং ব্যক্তি উদ্যোগেও কাজ চলছে,কিছু মহান হৃদয়ের মানুষ পর্দার অন্তরালে থেকে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন, বিদেশ থেকেও আমাদের বিত্তবানরা সাহায্য করে তাদের মহানুভতার পরিচয় দিয়ে যাচ্ছেন অবিরত ((যদিও আমরা বিদেশিদের ট্রল করে ছোট মানসিকতার পরিচয় দিয়েছি ইতিমধ্যে, তবুও আমাদের সজন বিদেশীরা মনোক্ষুন্ন হননি, দেশের চরম অন্তিম মুহূর্তে তারা মুখ ফিরিয়ে নেননি))। আমার প্রশ্ন – এত রাজনৈতিক দল এবং নেতা পাশাপাশি লম্বা লম্বা কথা বলা টকশো পার্টি ঠিক এ মুহূর্তে কোথায়-???
একটু পর্যালোচনা – একটি পত্রিকার শিরোনামে দেখলাম, শান্তিতে নোবেল বিজয়ী ইউনুসের পক্ষ থেকে গ্রামীণ ব্যাংক ২৪৫ পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেছেন ! আচ্ছা! ইউনুস সাহেব চাইলে এক কোটি মানুষের এক বছরের খাবারের ব্যবস্থা করা কোন ব্যাপার না, কারণ এই দেশের মানুষের কাছ থেকেই ছলে বলে কৌশলে সুদে-আসলে টাকা নিয়ে তিনি বানিয়েছেন টাকার পাহাড় ((ডঃ ইউনুস শুধুমাত্র একটা উদাহরণ অনুরূপ কতশত ইউনুস দেশের আনাচে-কানাচে রয়েছে))।
আরেকটু নজর দিন – জামাত এবং বিএনপি নেতৃত্বাধীন বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপ ,এই চাল চুরির ঘটনাকে সাধারণ মানুষের সামনে এমনভাবে রটাচ্ছে যে ,গোটা আওয়ামী লীগের সবাই এই মুহূর্তে চুরিতে ব্যস্ত,আসলেই কি তাই হচ্ছে? দেশরত্ন শেখ হাসিনার আদর্শিক লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মীরা মানুষের জীবন বাঁচাতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, বিশাল এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করতে ভুলভ্রান্তি থাকাটাই স্বাভাবিক,কিছু সমালোচনা অস্বাভাবিক কিছু নয়,তাই বলে আমরা সবাই কি চুরি করছি? আপনার বিবেক কি বলে? যারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে ব্যস্ত, তারা আদৌ মানুষের জন্য কিছু করছে কি?
অতীত ইতিহাস কি বলে – বঙ্গবন্ধুর সরকার চলাকালীন ঠিক এভাবেই নাজেহাল করার চেষ্টা করেছে দুর্বৃত্তরা, ইচ্ছে করে বিশৃঙ্খলা করতে ঘরে খাবার রেখেও মিছিল করিয়েছে তৎকালীন ষড়যন্ত্রকারীরা, দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় সেইসব প্রেতাত্মারা মানবতার ডাকে সাড়া না দিয়ে ঘোলা পানিতে মাছশিকারে সর্বোচ্চ চেষ্টায় লিপ্ত, নিজ চোখে না দেখলে বুঝতে পারবেন না,ওরা কত ভয়ংকর, এদের সাথে আবার আওয়ামীলীগের মুখোশ পরা কিছু সংখ্যক বর্ণচোরাদের সমর্থন রয়েছে পরোক্ষভাবে, হা ওরাও কিন্তু নীতিগতভাবে দলের মূল আদর্শিক নয়, একটু গভীরে গেলে দেখবেন এরা নব্যলীগার এবং এদের সাথে অবিরত সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে ছাত্রদল-জামাত হতে কিছু অনুপ্রবেশকারী ((ছাত্রদল এবং জামাত থেকে এদের আগমন ঘটেছে ৫ থেকে ৮ বছরের মধ্যে, এমনকি এরা বংশ পরিক্রমায় হৃদয়ে বিএনপি-জামাত লালন করে)), কিছু আওয়ামী লীগ নামধারি ত্রাণ কারচুপিতে জড়িত, এদের চিহ্নিত করে দল থেকে বহিস্কার করে আইনের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে ইতিমধ্যে, মাথায় রাখতে হবে দেশের অর্ধেকের বেশি ব্যবসা এখনো নিয়ন্ত্রণ করে বিএনপি জামাতের কালো ছায়া, অতএব সতর্ক হোন এবং বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ প্রতিটি ক্ষেত্রে তুলে ধরার চেষ্টা করুন, পাশাপাশি অবশ্যই বিএনপি-জামাত কিংবা ছাত্রদল-শিবির হতে যারা ইতিমধ্যে কয়েক বছরের মধ্যে অনুপ্রবেশ করেছে তাদের ব্যাপারে সতর্ক হোন, ইনশাল্লাহ দেশরত্ন শেখ হাসিনার সরকার কখনোই অন্যায় কে প্রশ্রয় দিবেন না, সকল অন্ধকার কাটিয়ে আমরা আবারো আলোর পথে সহযাত্রী হবো, আল্লাহ আমাদের সকলের সহায় হন।
জয় বাংলা
জয় বঙ্গবন্ধু