বি৭১নি ডেস্ক :
অবশেষে বকেয়া মজুরি ও ঈদের বোনাস পেলেন বিনা অপরাধে দুদকের মামলায় তিন বছর কারাভোগ করা সেই জাহালন। বকেয়া মজুরি না পেয়ে জাহালমের রিকশা চালানোর খবর পত্রিকায় প্রকাশের পর তা কর্তৃপক্ষের নজকে আসে। পরে আজ সোমবার সকালে বাংলাদেশ জুট মিলের জিএমকে বিজেএমসি’র চেয়ারম্যান ফোন করে জাহালমের সব বকেয়া মজুরি ও ঈদ বোনাস দেওয়ার নির্দেশ দেন।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ জুট মিলের ঘোড়াশাল শাখার জিএম মো. গোলাম রব্বানী আমাদের সময়কে বলেন, পত্রিকায় প্রকাশিত খবর দৃষ্টিগোচর হওয়ায় জাহালমের মানবিক দিক বিবেচনা করে তার সব ধরনের বকেয়া মজুরিসহ ঈদ বোনাস দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বিজেএমসির চেয়ারম্যান মহোদয়। পরে আজ জাহালমকে ব্যাংকের মাধ্যমে ঈদ বোনাস ৪ হাজার ৩৫০ টাকা এবং পাঁচ সপ্তাহের মজুরি ৭ হাজার ৭৩০ টাকা প্রদান করি।’
মজুরি ও বোনাস হাতে পাওয়ার পর জাহালম আমাদের সময়কে বলেন, ‘আজ আমি সকল ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। আপনাদের জন্য আজ আমি ঈদ বোনাসসহ সকল বকেয়া মজুরি হাতে পেয়েছি। এ টাকা দিয়ে আমার মা-বাবা, মেয়ে ও পরিবারের জন্য নতুন কাপড় কিনে আজই বাড়িতে রওনা দেবো খুশির ঈদ করার জন্য। দীর্ঘ তিন বছর পর সবার সাথে ঈদ করবো, এর চেয়ে আনন্দ আর কিছুই নেই।’
বিনা অপরাধে দুদকের মামলায় তিন বছর কারাভোগের পর চাকরি ফিরে পেলেও এবারের ঈদে মিল থেকে মাত্র ৩০০ টাকা মজুরি পান। পরে নরসিংদীর পলাশ শিল্প এলাকার বিজেএমসির নিয়ন্ত্রণাধীন ঘোড়াশালে বাংলাদেশ জুট মিল পাটকলের শ্রমিক জাহালম রিকশা চালিয়ে দুর্বিসহ জীবনযাপন করছিল।
জাহালম টাঙ্গাইলের নাগরপুর থানার ধুবুড়িয়া গ্রামের ইউসুফ আলীর ছেলে। তিনি বাংলাদেশ জুট মিলের তাঁত বিভাগের শ্রমিক। সোনালী ব্যাংকের ১৮ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ৩৩টি মামলা করে জাহালমের বিরুদ্ধে দুদক। তদন্ত কর্মকর্তার ভুলে অভিযুক্ত আবু সালেক নামের ব্যক্তির পরিবর্তে তিন বছর কারাভোগ করেন পাটকল শ্রমিক জাহালম। গত জানুয়ারিতে এ বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর ৩ ফেব্রুয়ারি সব মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে ওই দিনই জাহালমকে মুক্তির নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। পরে আদেশের কয়েক ঘণ্টা পরই কারাগার থেকে মুক্তি পান জাহালম।