• ১২ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২৯শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , ২৪শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

শঙ্কামুক্ত এটিএম শামসুজ্জামান

bijoy71news
প্রকাশিত এপ্রিল ২৮, ২০১৯

বি৭১নি ডেস্ক :
সফল অস্ত্রোপচারের পর ভালো আছেন কিংবদন্তি অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামান। ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণ শেষে, আজ তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) থেকে সাধারণ কেবিনে স্থানান্তর করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন তার ছোট ভাই ও শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের পরিচালক সালেহ জামান সেলিম।
তিনি বলেন, ‘শনিবার দুপুরে উনার পিত্তথলিতে একটি অপারেশন হয়। গতকাল রাতেই তার জ্ঞান ফিরেছে। এখন তিনি শঙ্কামুক্ত। আজ তাকে বেডে দেওয়া হতে পারে। আশা করি, কয়েকদিনের মধ্যে তিনি বাসায় ফিরতে পারবেন।’
সালেহ জামান সেলিম আরও জানান, প্রায় ৩০ বছর আগে এটিএম শামসুজ্জামানের পিত্তথলিতে একটি অপারেশন হয়েছিল। এতদিন তিনি ভালো ছিলেন। পিত্তথলির একটি নালী চেপে যাওয়ায় কারণে, ক’দিন ধরে খাদ্য হজমে সমস্যা দেখা দেয় তার। তাই অস্ত্রোপচার করা হয়েছে।
এদিকে, গুরুতর অসুস্থ হয়ে শুক্রবার রাতে রাজধানীর গেণ্ডারিয়ার আজগর আলী হাসপাতালে ভর্তি হন এটিএম শামসুজ্জামান। শনিবার সকালে মলত্যাগে জটিলতা দেখা দিলে জরুরি ভিত্তিতে তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেয়া হয়। জানা গেছে, বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছেন ৮৮ বছর বয়সী এই অভিনেতা। তিনি গেণ্ডারিয়ার আজগর আলী হাসপাতালে অধ্যাপক ডা. রাকিব উদ্দিনের তত্ত্বাবধানে আছেন।
উল্লেখ্য, এটিএম শামসুজ্জামানের ১৯৪১ সালের ১০ সেপ্টেম্বর নোয়াখালীর দৌলতপুরে নানাবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। পাঁচ ভাই ও তিন বোনের মধ্যে শামসুজ্জামান ছিলেন সবার বড়। এটিএম শামসুজ্জামানের চলচ্চিত্র জীবন শুরু ১৯৬১ সালে পরিচালক উদয়ন চৌধুরীর ‘বিষকন্যা’ ছবির সহকারী পরিচালক হিসেবে। প্রথম কাহিনী ও চিত্রনাট্য লিখেছেন ‘জলছবি’ ছবির জন্য। এ পর্যন্ত শতাধিক চিত্রনাট্য ও কাহিনী লিখেছেন।
কৌতুক অভিনেতা হিসেবে ১৯৬৫ সালের দিকে চলচ্চিত্র জীবন শুরু করেন এটিএম শামসুজ্জামান। ১৯৭৬ সালে চলচ্চিত্রকার আমজাদ হোসেনের ‘নয়নমণি’ ছবিতে খলনায়কের চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে আলোচনা আসেন তিনি। ১৯৮৭ সালে কাজী হায়াত পরিচালিত ‘দায়ী কে?’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। তিনি রেদওয়ান রনি পরিচালিত ‘চোরাবালি’তে অভিনয় করেন ও শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব-চরিত্রে অভিনেতা বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। ছবির পাশাপাশি তিনি অভিনয় করেছেন অসংখ্য নাটকে। শিল্পকলায় অবদানের জন্য ২০১৫ সালে পেয়েছেন রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা একুশে পদক।