বি৭১নি ডেস্ক :
শ্রীলঙ্কায় টানা আটটি বোমা হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৫৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও পাঁচ শতাধিক মানুষ। গত রোববার শ্রীলঙ্কায় তিনটি গির্জা, তিনটি হোটেল ও আরও কয়েকটি জায়গায় এ সিরিজ বোমা হামলা চালানো হয়।
এদিকে মঙ্গলবার শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা জানিয়েছেন, দেশের সাধারণ মানুষকে নিরাপত্তা দিতে যেদিন প্রতিরক্ষা বাহিনী ব্যর্থ হয়েছে সেদিনই তা বদলে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। তিনি বলেন, শিগগিরই আমি পুরোপুরি পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীকে পুনর্গঠন করবো। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিরক্ষা বাহিনী প্রধানকে বদলে ফেলা হবে বলে আশা করছি।’
এদিকে শ্রীলঙ্কায় হামলার দুদিন পর দায় স্বীকার করেছে ইসলামিক স্টেট (আইএস), তবে তারা কোনো প্রমাণ দেয়নি। চরমপন্থী গোষ্ঠীটি আজ তাদের আমাক সংবাদ সংস্থার মাধ্যমে দায় স্বীকার করে। তাদের দাবি, রোববারের হামলাকারীরা ছিলেন আইএসের যোদ্ধা। তবে হামলাকারীরা যে জঙ্গি গোষ্ঠীটির প্রতি অনুগত, সে বিষয়ে তারা কোনো ছবি বা ভিডিও দেয়নি।
হামলার ঘটনায় ইতিমধ্যে ৪০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে তাদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে ভয়াবহ আত্মঘাতী বোমা হামলার পর শ্রীলঙ্কা কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও বাড়িয়েছে। পুলিশ আদেশ জারি করে যে, যে কেউ রাস্তায় গাড়ি পার্ক করলে এবং অপ্রত্যাশিতভাবে চলে গেছে তার ফোন নম্বরসহ একটি নোট উইন্ডসস্ক্রিনে রাখা হবে।
ডাক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা আন র্যাপ করা কোনো পার্সেল গ্রহণ করবেন না। হামলার পর দেশটিতে জরুরি অবস্থা জারি রয়েছে। সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপসহ গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বার্তা পাঠানোর অ্যাপস দেশটিতে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে যাতে করে ভুল তথ্য ও গুজব ছড়ানো রোধ করা যায়।
ইস্টার সানডের আয়োজনকে ঘিরে গত ২১ এপ্রিল সকাল সাড়ে ৮টা থেকে পৌনে ৯টার মধ্যে কোচচিকাদে এলাকার সেইন্ট অ্যান্থনি চার্চ, কাটুয়াপিতিয়ার সেইন্ট সেবাস্টিয়ানের চার্চ এবং বাত্তিকালোয়ার একটি গির্জায় বোমা হামলা চালানো হয়। এর কিছুক্ষণ পর রাজধানী কলম্বোর তিনটি হোটেল-সাংগ্রিলা, কিংসবারি ও সিনামন গ্র্যান্ড হোটেলেও বোমা বিস্ফোরণ হয়। পরে আরও দুই স্থানে হামলা হয়। এতে ওই হতাহতের ঘটনা ঘটে।