বি৭১নি ডেস্ক :
জগতের সব বন্ধন ছিন্ন করে, ভক্তদের কাঁদিয়ে রাজধানীর মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন প্রখ্যাত সঙ্গীত ব্যক্তিত্ব ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল। আজ বুধবার সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে তার দাফন সম্পন্ন হয়। এর আগে, কবরস্থানে বাদ মাগরিব তার তৃতীয় নামাজের জানজা সম্পন্ন হয়। জানাজা শেষে পপসম্রাট আজম খান ও অভিনেতা হুমায়ুন ফরীদির সমাধীর পাশে দাফন করা হয় দেশ বরেণ্য এই শিল্পীকে। পরিবারের লোকজনদের পাশাপাশি এ সময় উপস্থিত ছিলেন সঙ্গীতাঙ্গনের অনেকেই।
এর আগে, সকাল পৌনে ১১টায় আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের মরদেহ নেওয়া হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে। সেখানে তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর বাদ জোহর তার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে। সেখানে তার প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
এরপর দুপুর ২টার দিকে তার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (বিএফডিসি)। দুপুর ২টা ২০ মিনিটে সেখানে তার দ্বিতীয় নামাজে জানাজা সম্পন্ন হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অভিনেতা আলমগীর, রিয়াজ, জায়েদ খান, সঙ্গীতশিল্পী রবি চৌধুরী, মনির খান, শফিক তুহিন, এন্ড্রু কিশোর, পরিচালক মুশফিকুর রহমান গুলজার, বদিউল আলম খোকনসহ অনেকে। জানাজা শেষে বেলা আড়াইটার দিকে দাফনের উদ্দেশে মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে নিয়ে যাওয়া হয় ইমতিয়াজ বুলবুলের মরদেহ।
উল্লেখ্য, গতকাল মঙ্গলবার (২২ জানুয়ারি) ভোরে রাজধানীর আফতাব নগরের নিজ বাসায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল। দীর্ঘদিন ধরে তিনি হৃদযন্ত্রের জটিলতায় ভুগছিলেন।
১৯৫৭ সালের ১ জানুয়ারি আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। মাত্র ১৪ বছর বয়সে বুলবুল মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। ১৯৭৮ সালে জাফর ইকবাল-সুচরিতা অভিনীত ‘মেঘ বিজলি বাদল’ সিনেমায় সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে বুলবুলের অভিষেক ঘটে। এরপর আর তাকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। অডিওর পাশাপাশি সিনেমার গান তৈরি করেও আকাশচুম্বী খ্যাতি পান আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল।
সংগীত ক্যারিয়ারে এ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিনশ’ সিনেমায় সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন বুলবুল। কাজের স্বীকৃতি হিসেবে রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মান একুশে পদক, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং রাষ্ট্রপতির পুরস্কারসহ অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত হন গানের মানুষ আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল।