• ১১ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২৮শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , ২৩শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

সিলেটে অবৈধ হাট বসাতে শুরু হলো ‘খুঁটিগাড়া’

bijoy71news
প্রকাশিত আগস্ট ১৫, ২০১৮

নুরুল হক শিপু ::
সিলেট মহানগরী ও নগরীর উপকণ্ঠে বিভিন্ন স্থানে কোরবানির পশুর অবৈধ হাট বসানোর জন্য ‘খুঁটিগাড়া’ শুরু করেছে প্রভাবশালীরা। আর এক্ষেত্রে রাজনৈতিক মতবিরোধের উর্ধ্বে ওঠে বিএনপি আওয়ামী লীগ জোটবদ্ধভাবে হাটের স্থান দখলে নেমে পড়েছে। শুরু হয়েছে দখলকৃত স্থানে ‘খুঁটিগাড়া’ অর্থাৎ অস্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ।

সিলেট মহানগর পুলিশ বৈধ ১২ হাটের নাম এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রকাশ করেছে। হাটেগুলো হচ্ছে, মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি থানার কাজীরবাজার পশুর হাট, জালালাবাদ থানার শিবের বাজার পশুর হাট, কুড়িরগাঁও (ইসলামগঞ্জ বাজার) পশুর হাট, এয়ারপোর্ট থানার সাহেব বাজার সুন্নিয়া হাফিজিয়া দাখিল মাদ্রাসা মাঠ, দক্ষিণ সুরমা থানার লালাবাজার পশুর হাট, কামালবাজার পশুর হাট, মোগলাবাজার থানার জালালপুর পশুর হাট, হাজীগঞ্জ বাজার, রাখালগঞ্জ বাজার পশুর হাট এবং শাহপরাণ থানা এলাকায় ৩টি পশুর হাট বসবে। এই হাটগুলোর বাইরে যেসকল পশুর হাট বসানো হবে সেগুলো ‘অবৈধ’ পশুর হাট বলে বিবেচিত হবে।

সূত্র মতে, প্রতি বছরের ন্যায় এবারো মহানগরীর মেন্দিবাগ, শাহী ঈদগাহ সদর উপজেলা খেলার মাঠ, শাহী ঈদগাহ কালাপাথর মাঠ, টিলাগড় এমসি কলেজ সংলগ্ন মাঠ, রিকাবিবাজার পয়েন্ট, উপশহর, বাগবাড়ি, আখালিয়া, মদিনা মার্কেট, মিরাবাজার, মেন্দিবাগ, ঘাসিটুলা, মালনীছড়া, দক্ষিণ সুরমার চন্ডিপুল, কদমতলী ফল মার্কেটের সামনের মাঠ, দক্ষিণ সুরমার বাবনা পয়েন্ট, হুমায়ুন রশীদ চত্বর, লামাবাজার, জিতু মিয়ার পয়েন্টসহ বিভিন্নস্থানে পশুর অবৈধ হাট বসানোর প্রস্তুতি চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল শাহী ঈদগাহ সদর উপজেলা খেলার মাঠে একটি প্রভাবশালী চক্র ‘খুঁটিগাড়া’র কার্যক্রম শুরু করেছে।

জানা গেছে, প্রতি বছরের সিটি কর্পোরেশনের নির্লিপ্ততার সুযোগ নিচ্ছে একাধিক পশুর অবৈধ হাট পরিচালনাকারী চক্র। যার ফলে গত কয়েক বছর ধরে নগরবাসীকে কোরবানির পশু কিনতে বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে। গত বছর নগরীতে কোরবানির পশুর সংকট থাকায় অনেকে ঈদের দিন কোরবানি দিতে পারেননি। নিরুপায় হয়ে তারা সিলেটের বাইরে থেকে পশুর ব্যবস্থা করে পরের দিন কোরবানি দিয়েছেন।

অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় প্রশাসন নগরীর ‘যত্রতত্র কোরবানির পশুর হাট বসানো যাবে না’ ঘোষণা দিয়েই তাদের দায়িত্ব শেষ করে। ঈদের দু’একদিন আগে নগরীর যত্রতত্র কোরবানির পশুর হাট বসার প্রভাব পড়ে নগরীতে থাকা সিলেটের সর্ববৃহৎ পশুর হাট কাজীরবাজারে। সারা বছর দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এই বাজারে গরু-ছাগল নিয়ে আসেন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু ঈদুল আজহার সময় তারাও হন বিড়ম্বনার শিকার। ট্রাক বোঝাই কাজীরবাজারে যাওয়ার পথে তাদের ট্রাক আটকে লাঠিয়াল দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা হাটে। বিভিন্ন এলাকা থেকে পশু নিয়ে আসা বেপারিরা নগরীর প্রবশে পথেই অবৈধ হাটের লাঠিয়ালদের কবলে পড়েন। স্থানীয় প্রশাসনও ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ নেতাদের ম্যানেজ করেই এসব অবৈধ হাট বসানো হয়। অন্যান্য বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও এর ব্যতিক্রম হচ্ছে না। ঈদুল আজহার বাকি আর মাত্র আটদিন।

বৈধ হাটের ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, প্রতি বছরই হাটে আসা গরু ভর্তি ট্রাক জোর করে অবৈধ হাটে নিয়ে যাওয়া হয়। এসব ঘটনা প্রশাসনের সামনেই ঘটে। অথচ প্রশাসন অনেক ক্ষেত্রে নির্বিকার থাকে। গত বছর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ এবং বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল এসব ঘটনায় জড়িত ছিলো। কিন্তু প্রশাসনের দেওয়া ঘোষণা অনুযায়ী কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

কাজিরবাজার পশুর হাটের ম্যানেজার শাহাদাৎ হোসেন লোলন বলেন, ‘গত বছর পশুর দাম বেশি হওয়ার মূল কারণ বৈধ হাট থাকতেও অবৈধ হাট বসা। এরমধ্যে অন্যতম কারণ হচ্ছে, জোরপূর্বক পশুবাহী গাড়ি থামিয়ে অবৈধ হাটে পশু নামিয়ে দেওয়া। এসব ঘটনায় সিলেটের বাইরের ব্যবসায়ীরা ভয়ে সিলেটে আসেননি। যার কারণে পশু সংকট দেখা দেয় এবং অতিরিক্ত দামে বিক্রি হয়। তিনি বলেন, বৈধ এতোটি হাট থাকতে কেন অবৈধ হাট বসানো হয়। আর বসানো হলে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হয় না? তিনি বলেন, বৈধ হাটগুলোতে দেশের বিভিন্ন এলাকার বেপারিরা পশু নিয়ে আসেন। তবে প্রতিবারই গাড়ি থেকে গরু জোরপূর্বক আটকে নেয়ার ঘটনা ঘটে।

সিলেট মহানগর পুলিশে উপকমিশনার (গণমাধ্যম) মুহম্মদ আবদুল ওয়াহাব বলেন, ‘পশুর অবৈধ হাট বসালেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আমরা যেখানে পশুর অবৈধ হাট বসানোর খবর পাবো সাথে সাথে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’

সিলেটের জেলা প্রশাসক নুমেরী জামান বলেন, ‘পশুর অবৈধ হাট বসানোর জন্য ‘খুঁটিগাড়া’ হলে ওই খুঁটি থাকবে না। নগরীর ভেতরে অবৈধ হাট বসালেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’