জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক :
আগের চার ইনিংসে তার রান ছিল টেলিফোন ডিজিটের মতো- ১, ০, ৯, ৬। সেই লিটন দাস আজ খেললেন ৪৩ বলে ৭০ রানের দারুণ এক ইনিংস। সাথে ওয়ার্নারের । তাতেই ঘরের মাঠে রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে ১৮৭ রানের পাহাড় ছুড়ে দিয়েছে সিলেট সিক্সার্স।
বিপিএলে কাল মঙ্গলবার কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের বিপক্ষে ৬৮ রানে অলআউট হয়ে সিলেট সিক্সার্স হেরেছিল ৮ উইকেটে। ওই ধ্বংসস্ত’প থেকেই যেন আজ জেগে ওঠলেন লিটন-ওয়ার্নাররা।
টস জিতেছিলেন মাশরাফি। পরে বোলিংয়ে শিশিরের বিষয়টি বিবেচনা করেই বোধহয় ব্যাটিংয়ে পাঠালেন সিলেটকে। শুরুতেই বিস্ময় উপহার দিল সিলেট। ওয়ার্নারের বদলে এবারের বিপিএলে আগের ম্যাচগুলোতে ব্যর্থ লিটন দাস আর সাব্বির রহমান এলেন ওপেনিংয়ে। দুজনের জুটিও হলো দুর্দান্ত। মাশরাফির প্রথম ওভার থেকেই তেড়েফুড়ে খেলতে লাগলেন দুজনে। ৫ ওভার ৩ বলেই স্কোরবোর্ডে রান ওঠে পঞ্চাশ।
সাব্বির কিছুটা স্থির হলেও লিটনের ব্যাটে ছিল তা-ব। ২৯ বলেই অর্ধশতক তুলে নেন লিটন। নবম ওভারে এসে ভাঙে জুটি। ২০ বলে ২০ রান করা সাব্বির বেনি হাওয়েলের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরে যান। সিলেট সিক্সার্সের রান ৭৩।
লিটনের সাথে উইকেটে এসে ওয়ার্নারও মেতে ওঠেন রান উৎসবে। মাশরাফির এক ওভারে চার বলের মধ্যে ওয়ার্নার হাঁকানা ২টি চার, একটি ছয়। ওই ওভারে ১৯ রান দেয়া মাশরাফি আগের দুই ওভারে দিয়েছিলেন ১০ ও ১৪ রান। তিন ওভারে ৪৩ রান খরচ করে আর বোলিংয়েই আসেননি রংপুরের অধিনায়ক।
লিটন-ওয়ার্নারের ৩৬ বলে ৫৬ রানের জুটি ভাঙে লিটনের বিদায়ে। রান আউট হয়ে ফেরার আগে ৪৩ বলে ৯টি চার আর একটি ছয়ে ৭০ রান আসে লিটনের ব্যাট থেকে। উইকেটে এসে নিকোলাস পুরানও ছিলেন ধ্বংসাত্মক, তবে শফিউলের বলে বোল্ড হয়ে ফিরে যান দ্রুতই। তার ১৬ বলে ২৬ রানের ইনিংসে ছিল ৩টি চার, একটি ছয়।
ইনিংসের উনিশতম ওভারে বাঁহাতি ওয়ার্নার হয়ে যায় ডানহাতি! গেইল তখন বোলিংয়ে। প্রথম বলে ২ রান নেয়ার পর পরের দুই বল ডট। বিরক্ত ওয়ার্নার চতুর্থ বলে এসে ডানহাতি ব্যাটসম্যানদের মতোই স্ট্যান্স নিলেন। ওই বলেই বোলারের মাথার ওপর দিয়ে ছয়! পরের দুই বলে দুই বাউন্ডারি! শেষপর্যন্ত ৬টি চার ২টি ছয়ে ৩৬ বলে ৬১ রানে অপরাজিত থাকা ওয়ার্নারের তার সেই পুরনো বিধ্বংসী রূপেই দেখা গেছে এদিন। এটি টুর্নামেন্টে ওয়ার্নারের দ্বিতীয় অর্ধশতক।
৫ উইকেট হারিয়ে ১৮৭ রান তুলে সিলেট সিক্সার্স। এবার বিপিএলে এটাই তাদের সর্বোচ্চ ইনিংস।
সাত বোলার ব্যবহার করেও লিটন-ওয়ার্নারদের ব্যাটিং তা-ব রুখতে পারেননি মাশরাফি। এর মধ্যে উজ্জ্বল ছিলেন শফিউল ইসলাম। ৪ ওভারে ৩১ রানের খরচায় নিয়েছেন ৩ উইকেট। হাওয়েল ৩ ওভারে ২২ রানে পেয়েছেন এক উইকেট।