• ১০ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২৭শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , ২২শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

জাপা-গণফোরামে একক প্রার্থী, নৌকা-ধান নিয়ে টানাটানি

bijoy71news
প্রকাশিত অক্টোবর ১০, ২০২৩

সিলেট জেলার বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগর দুই উপজেলা নিয়ে গঠিত সিলেট-২ আসন। এই আসনে বিগত দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোটের কারণে আওয়ামী লীগের প্রার্থী অংশ না নেওয়ায় আসনটি জাপা ও গণফোরামের দখলে চলে যায়।

আগামী জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষে আসনটিতে বিএনপি অবস্থান ধরে রাখলেও পিছিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। দ্বাদশ নির্বাচনে আসনটি পুনরুদ্ধারে আওয়ামী লীগ সচেষ্ট রয়েছে। তবে রয়েছেন একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী।

এদিকে, আওয়ামী লীগ-বিএনপিতে একাধিক প্রার্থী থাকলেও একক প্রার্থী জাপা এবং গণফোরামের। দলীয় জোটে ভাগ্য খোলার অপেক্ষায় তারা।

জানা যায়, আসনটিতে একসময় আওয়ামী লীগের শক্ত অবস্থান থাকলেও জোটকে ছেড়ে দেওয়ায় সেটা এখন আর নেই। মহাজোট নিয়ে আলোচনার কারণে কর্মীদের মধ্যেই কমছে উদ্যম। তবে দলীয় প্রার্থীর মাধ্যমে আসনটি পুনোরুদ্ধারের চেষ্টায় রয়েছে আওয়ামী লীগ।

সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে সাবেক এমপি শফিকুর রহমান চৌধুরী, ইয়াহ্ইয়া চৌধুরী ও যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর মনোনয়ন দ্বন্দে এবং প্রার্থীর সম্বনয়হীনতায় ভরাডুবি হয়েছে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে গঠিত মহাজোটের। একাদশ জাতীয় নির্বাচনে গণফোরামের প্রার্থী মোকাব্বির খানের কাছে বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়ে জামানত হারান জাতীয় পার্টি ভাইস চেয়ারম্যান মহাজোটের প্রার্থী ইয়াহ্ইয়া চৌধুরী। পরবর্তীতে বিগত সিলেট সিটি নির্বাচনে জাপার প্রার্থী থাকলেও আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে প্রকাশ্যে ভোট চাওয়ায় দল তাকে বহিস্কার করলেও আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে কৌশলে স্বপদে ফিরেছেন সম্প্রতি ।

অন্যদিকে, আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হওয়ায় কপাল খুলতে পারে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরীর। নবম জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী এম.ইলিয়াস আলীকে পরাজিত করে বিজয়ী হন তিনি। এছাড়া আসনটিতে নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী একুশে পদকপ্রাপ্ত অরূপরতন চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আখতারুজ্জামান চৌধুরী জগলু রয়েছেন।

২০০১ সালে জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের শাহ আজিজুর রহমানকে পরাজিত করে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে এমপি নির্বাচিত হন এম. ইলিয়াস আলী। নবম জাতীয় নির্বাচনে শফিকুর রহমান চৌধুরীর কাছে ধরাসায়ী হন তিনি। ২০১২ সাল থেকে বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এম.ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হলে ইলিয়াস ইস্যুকে কাজে লাগিয়ে দলীয় অবস্থান ধরে রেখেছেন তার স্ত্রী বিএনপির চেয়ারপাসনের উপদেষ্টা তাহসিনা রুশদীর লুনা। বিএনপি নির্বাচনে গেলে দলীয় মনোনয়ন চাইবেন তিনি। ইলিয়াস আলীর ইস্যুকে কাজে লাগিয়ে দলের ভিতর শক্ত অবস্থান তার। পিছিয়ে নেই জেলা মুক্তিযোদ্ধা দলের যুগ্ম আহবায়ক অ্যাডভোকেট অনোয়ার হোসেন। রাজনৈতিক মামলায় ভুক্তভুগিদের আইনি সহায়তা দিয়ে তৃণমূলে নিজের অবস্থান গড়েছেন তিনি। একাধিক সভা-সমাবেশে দলীয় মনোয়ন চাওয়ার বিষয়টি জানান দিয়েছেন।

বিগত নির্বাচনে পরাজিত হলেও আগামী নির্বাচনের প্রস্থুতি নিচ্ছেন খেলাফত মজলিসের মুহাম্মদ মুনতাসির আলী। যদিও তিনি জনবিচ্ছিন্ন।

আর দলীয় জোট হলে সাবেক এমপি জাতীয় পার্টির ইয়াহ্ইয়া চৌধুরী একং বর্তমান এমপি গণফোরামের মোকাব্বির খান দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার আশা রাখছেন।

সূত্র জানায়, বিগত নির্বাচনে গণফোরামের সাথে বিএনপির জোট হওয়ায় মোকাব্বির খান এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সাথে দূরত্ব সৃষ্টি করে আতাত করেন ক্ষমতাশীন দলের সাথে। যদিও নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী না থাকায় দলটি ভরসা করেছিল তার উপর।

স্থানীয়রা বলছেন, আওয়ামী লীগ দু-বার আসনটি জোটের স্বার্থে জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেয়। বিএনপিও গত নির্বাচনে জোটকে দিয়েছে। ফলে মাঠে নেই দলীয় প্রার্থীরা। জোট গঠন ও নির্বাচনী পরিবেশ পরিস্থিতি বুঝে তাঁরা হয়তো মাঠে নামবেন।

জেলা মুক্তিযোদ্ধা দলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক অ্যাডভোকেট অনোয়ার হোসেন বলেন, সিলেট-২ আসনে বিগত সময়ে কাংঙ্খিত উন্নয়ন হয়নি। জোটের কারণে ভাগ্য খুলে প্রবাস থেকে উরে এসে অনেকেই সংসদ সদস্য হয়েছেন। জনগনের পাশে না থাকায় নির্বাচিত হলেও জনগণ তাদের নামই জানেন না। জনবিচ্ছিন্ন হওয়ায় প্রত্যান্ত অঞ্চলের কোন উন্নয়ন হয়নি। আগামী জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি দলীয় ভাবে নির্বাচনে অংশ নিলে এবং আমাকে দলীয় মনোনয়ন দিলে আমার বিশ্বাস জনগণ আমায় নির্বাচিত করবে।

সাবেক সংসদ জাতীয় পার্টি ভাইস চেয়ারম্যান ইয়াহ্ইয়া চৌধুরী বলেন, আমি সংসদ সদস্য থাকাকলে সকল দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে একযুগে দুই উপজেলায় উন্নয়ন করেছি। আমার সময়ে ওসমানীনগর উপজেলা পরিষদ, বিশ্বনাথ পৌরসভা বাস্থবায়ন হয়েছে। ওসমানীনগর উপজেলা হাসপাতলের কাজ চলমান এসব মেগা প্রকল্প বাস্থবায়ন করায় ঈশ্বানিত হয়ে বিগত নির্বাচনে বানচাল করা হয়েছে। আগামী জাতীয় নির্বাচনে জনগন আমায় মূল্যায়ন করবে বলে মনে করছি।

বিএনপির চেয়ারপাসনের উপদেষ্টা তাহসিনা রুশদির লুনা বলেন, বিএনপি একদফা এক দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। আন্দোলন ঠেকাতে আমাদের নেতাকর্মীদের উপর গ্রেফতার ও নির্যাতন চালানো হচ্ছে। বর্তমান সরকার কোন সুষ্ট নির্বাচন দিতে পারবে না। তাই নিরপেক্ষ নির্দলীয় সরকারের মাধ্যমে জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিলে এবং আমি দলীয় মনোনয় পেলে এই আসনে বিএনপির বিজয় নিশ্চিত।

সাবেক সংসদ সদস্য সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিকুর রহমান বলেন, জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে এমপি না থেকেও জনকল্যাণে কাজ করছি। আওয়ামী লীগ সরকার গ্রামকে শহরে রুপান্তর করছে, কিন্তু সিলেট-২ আসনের এমপি সরকারের উন্নয়ন নিজের উন্নয়ন বলে ঢুল ফাঠাচ্ছেন। একসময় ইলিয়াস আলী বলতেন প্রধানমন্ত্রী আসলেও সিলেট-২ আসনে বিজয়ী হতে পারবেন না, কিন্তু আমি প্রধানমন্ত্রীর নগন্য কর্মী হয়েও নবম জাতীয় নির্বাচনে বিপুল ভোটে ইলিয়াস আলীকে পরাজিত করেছি। আমি দলের স্বার্থে দুই বার প্রধানমন্ত্রীর নিদের্শ পালনে নির্বাচন থেকে সরে আসি। বর্তমানে এই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী চায় জনগন। আমি আশাবাদি আওয়ামী লীগ নেত্রী উন্নয়নের স্বার্থে আগামী জাতীয় নির্বাচনে আমাকে মূল্যায়ন করবেন।