• ১২ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২৯শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , ২৪শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

সিরিয়ায় সামরিক একাডেমিতে ড্রোন হামলায় নিহত ১০০

bijoy71news
প্রকাশিত অক্টোবর ৬, ২০২৩

অনলাইনে পোস্ট করা একটি গ্রাফিক ভিডিওতে সামরিক একাডেমিতে ড্রোন হামলার পরের দৃশ্য

সিরিয়ার হমস শহরে একটি সামরিক একাডেমিতে ড্রোন হামলায় অন্তত ১০০ জন নিহত এবং কয়েক ডজন আহত হয়েছে।

বিস্ফোরক-বোঝাই ড্রোনগুলো ক্যাডেটদের পরিবারের উপস্থিতিতে একটি স্নাতক সমাবর্তনকে লক্ষ্যবস্তু করে। নিহতদের মধ্যে মহিলা এবং শিশুও ছিল।

সেনাবাহিনী ‘পরিচিত আন্তর্জাতিক বাহিনী দ্বারা সমর্থিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’কে দায়ী করেছে। খবর বিবিসির।

হামলার ঘটনায় দেশটির গৃহযুদ্ধে সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত বিদ্রোহী ও জিহাদিদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো দাবি করা হয়নি।

হমসের উত্তর-পশ্চিমে বিরোধী নিয়ন্ত্রিত এলাকা থেকে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পরে হোয়াইট হেলমেট থেকে প্রথম রিপোর্ট করা হয় যে ইদলিব প্রদেশের বিরোধীদের শক্ত ঘাঁটিতে বেশ কয়েকটি শহর, নগর এবং গ্রামে তীব্র সরকারি কামান এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় পাঁচজন বেসামরিক লোক নিহত হয়েছে।

সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সানা সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল কমান্ডের একটি বিবৃতি উদ্ধৃত করে বলেছে যে বিকালের গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার ঠিক পরেই বিস্ফোরক বহনকারী বেশ কয়েকটি ড্রোন হমস সামরিক একাডেমিকে লক্ষ্য করে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সশস্ত্র বাহিনী ‘এই কাজটিকে একটি নজিরবিহীন অপরাধ বলে মনে করে এবং নিশ্চিত করে যে যেখানেই থাকুক না কেন এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে পূর্ণ শক্তি ও দৃঢ়তার সঙ্গে জবাব দেবে।

পরে একটি প্রতিবেদনে সংস্থাটি স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসান আল-গাব্বাসকে উদ্ধৃত করে বলেছে যে হামলায় ২০০ জনেরও বেশি লোক আহত হয়েছে এবং নিহতদের মধ্যে ছয় মহিলা এবং ছয় শিশু রয়েছে।

হামলার পরের একটি গ্রাফিক ভিডিওতে কয়েক ডজন হতাহত এবং তাদের স্বজনরা একটি বড়, দেয়াল ঘেরা প্যারেড গ্রাউন্ডের ভিতরে সাহায্যের জন্য চিৎকার করতে দেখা যায়। গুলির শব্দও শোনা যায়।

সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস (এসওএইচআর) জানিয়েছে, সিরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন কিন্তু হামলার কয়েক মিনিট আগে চলে যান।

২০১১ সালে প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ শান্তিপূর্ণ গণতন্ত্রপন্থি বিক্ষোভ সহিংসভাবে দমন করার পর শুরু হওয়া গৃহযুদ্ধে অর্ধ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।

প্রায় ৬.৮ মিলিয়ন মানুষ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত এবং আরও ৬ মিলিয়ন শরণার্থী বা বিদেশে আশ্রয়প্রার্থী।

সিরিয়ার জন্য জাতিসংঘের বিশেষ দূত গেইর পেডারসেন একাডেমিতে হামলাকে ‘ভয়াবহ’ বলে বর্ণনা করেছেন এবং সংঘাতের সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম অনুশীলন’ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

‘সব পক্ষকে অবশ্যই আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে তাদের বাধ্যবাধকতাকে সম্মান করতে হবে এবং বেসামরিক ও বেসামরিক অবকাঠামোর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে,’ তিনি বলছিলেন।