‘কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ। বছরের চার থেকে পাচঁ মাস খেলার সুযোগ হলেও ৬ থেকে ৭ মাসই থাকে অনুপযোগী। জলাবদ্ধতা, কাঁদাপানি ও বড় বড় ঘাস থাকলেও নিয়মিত পরিচর্যার অভাব রয়েছে। গ্যালারিতে নেই ছায়ার ব্যবস্থা। শীতের মৌসুমে মাঠে থাকে ধুলাবালি।’
‘অন্যদিকে, হ্যান্ডবল মাঠের দুই পাশে ঘাস ও জলাবদ্ধতায় একাকার। মোটা বালু ও ছোট কংক্রিটের টুকরায় অস্বস্থি। বিকল্প না থাকায় বাধ্য হয়ে বছরের অধিকাংশ সময় সেখানে খেলতে হয়। এতে নিয়মিতই ৪ থেকে ৫ জন শিক্ষার্থী আহত হন। এসব কারণে ব্যাহত হচ্ছে খেলাধুলা।’
এভাবে ক্যাম্পাসের দুইটি মাঠের বর্তমান চিত্রের কথা বললেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। মাঠের সংস্কার কিংবা পরিচর্যার অভাবে শিক্ষার্থীরা খেলাধূুলাবিমুখ হচ্ছেন। এসব সমস্যা নিয়ে বুধবার পর্যন্ত অন্তত ২০ জন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা হয়েছে।
তারা বলেন, ‘ক্যাম্পাসকে পুরোপুরি মাদক, ধূমপানমুক্ত ও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনামুখী রাখতে হলে খেলাধুলার সুযোগ সুবিধা পর্যাপ্ত প্রয়োজন। সুবিধা না থাকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিংবা অকাজে সময় অপব্যয় করেন শিক্ষার্থীরা।’
এর প্রভাব শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশে এবং পড়ালেখায় পড়ে বলে বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষার্থীদের অভিমত।
পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগ, বাংলা বিভাগ, বন ও পরিবেশ বিজ্ঞান এবং খাদ্য প্রকৌশল ও চা প্রযুক্তি বিভাগসহ কয়েকটি বিভাগের অন্তত ১০ জন ছাত্র-ছাত্রী (খেলোয়াড় শিক্ষার্থী) বলেন, নিয়মিত পরিচর্যার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে ছায়া, পানি, ওয়াশরুম, ড্রেসিং রুমের ব্যবস্থা, প্রথম ছাত্রী হলসংলগ্ন মাঠটির খেলা উপযোগী করা, কোনো টুর্নামেন্ট চলাকালীন শিক্ষার্থীদের ক্লাস-কার্যক্রমের বিষয়টি বিবেচনায় রাখা, ভলিবলের জন্য স্থায়ী মাঠ ও হ্যান্ডবল গ্রাউন্ডে ভলিবলের টুর্নামেন্ট হলে টার্পের ব্যবস্থা করা দরকার।
সর্বোপরি, মাঠগুলো সংস্কার ও একটি ইনডোর মাঠের দাবি জানান তারা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কাউন্সিলিং সাইকোলজিস্ট ফজিলাতুন নেসা বলেন, খেলাধুলা শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাসকে দৃঢ় করে ও মেধা বিকশিত করে। এর মাধ্যমে তাদের মনোযোগ ও ধারণক্ষমতা তৈরি হয়, যা পড়াশোনা কিংবা গবেষণার জন্য আবশ্যক। হতাশা কিংবা কঠিন পরিস্থিতিতে ভেঙ্গে না পড়ার দৃঢ় মনোবল তৈরি করে। আত্মহত্যা রোধে খেলাধুলার গুরুত্বই প্রথম বলে জানান তিনি। ‘তাই মাঠ নিয়মিত পরিচর্যা ও সংস্কার প্রয়োজন বলে মনে করেন এই বিশেষজ্ঞ।
তিনি আরও বলেন, ‘আমি ৮ থেকে ১০ জন শিক্ষার্থীর খবর জানি, যারা খেলতে পছন্দ করে; কিন্তু আহত হওয়ার কারণে তারা আর খেলতে পারছে না। তারপর পড়ালেখায় খারাপ করে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। ফলে তাদের ভবিষ্যতের লক্ষ্য উদ্দেশ্যই পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে।’
এ বিষয়ে শাবির শারীরিক শিক্ষা দপ্তরের পরিচালক সৌদ বিন আম্বিয়া বলেন, ‘কেন্দ্রীয় মাঠ অক্টেবর মাস থেকে ৮ মাস খেলাধুলার উপযোগী থাকে; পরিচর্যা হয়। বৃষ্টির কারণে ৪ মাস সম্ভব হয়না। হ্যান্ডবল মাঠের পরিচর্যা সাধ্যমত করে থাকি।’
সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. কবির হোসেন বলেন, ‘খেলার মাঠের পরিচর্যার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে কথা বলব।’ শিক্ষার্থীদের দাবি ও মাঠ সংস্কারের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘পরবর্তী বাজেটে চাহিদার শীর্ষে থাকবে মাঠ সংস্কার।’ এই পরিকল্পনায় কাজ করা হচ্ছে বলে জানান উপ-উপাচার্য।