• ১২ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২৯শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , ২৪শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

ভুলে ভরা ম্যাচে ভুলে ভরা ব্যাটিং

bijoy71news
প্রকাশিত মার্চ ৩১, ২০২১

বি৭১নি ডেস্ক ::
নিউজিল্যান্ড সফরে বাংলাদেশ দলের হার যেন নিয়তির মতোই নির্ভুল। চিত্রনাট্যে যতই নাটকীয়তা যোগ হোক না কেন, শেষ দৃশ্যে কোনো রদবদল নেই। নেপিয়ারে কাল বৃষ্টিবিঘ্নিত দ্বিতীয় টি ২০ তে ভুলের ঘনঘটায় জমজমাট নাটক মঞ্চস্থ হলেও শেষ পর্যন্ত সম্ভাব্য জয় হাতছাড়া করে বাংলাদেশের সঙ্গী সেই হতাশাই। ডাকওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতিতে বাংলাদেশকে ২৮ রানে হারিয়ে এক ম্যাচ বাকি থাকতে টি ২০ সিরিজও নিজেদের করে নিল নিউজিল্যান্ড। এর আগে ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচেও জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়ে নিজেদের ভুলে হেরেছিল বাংলাদেশ। এবার অবশ্য ভুলের প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের টেক্কা দিলেন ম্যাচ অফিশিয়ালরা! টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা নিউজিল্যান্ডের ইনিংস দুই দফায় বৃষ্টির বাধার মুখে পড়ে। দ্বিতীয়বার বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ হওয়ার সময় ১৭.৫ ওভারে কিউইদের সংগ্রহ ছিল পাঁচ উইকেটে ১৭৩ রান। সেখানেই ইনিংসের সমাপ্তি। বৃষ্টি থামার পর ডাকওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতিতে বাংলাদেশের লক্ষ্য নির্ধারণ নিয়ে শুরু হয় মহানাটক। প্রথমে বলা হয়, ১৬ ওভারে বাংলাদেশের লক্ষ্য ১৪৮ রান। কিন্তু ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই বদলে যায় লক্ষ্য। খেলা থামিয়ে ম্যাচ রেফারি জেফ ক্রো জানান, আগের হিসাব ভুল ছিল! এরপর ঘোষণা করা হয় নতুন লক্ষ্য। ১৬ ওভারে বাংলাদেশকে করতে হবে ১৭০ রান। ক্রিকইনফো, ক্রিকবাজের মতো ওয়েবসাইটগুলোও ১৭০ রানের লক্ষ্যের কথা জানায়। পরে জানা যায় এই হিসাবও ভুল! বাংলাদেশের প্রকৃত লক্ষ্য ছিল ১৬ ওভারে ১৭১। সেটি মাহমুদউল্লাহরা জেনেছেন নয় বল খেলার পর। বৃষ্টি আইনের শিট না থাকায় এ বিপত্তি। লক্ষ্য নিয়ে এমন অভাবনীয় বিভ্রাটে হতবাক ধারাভাষ্য কক্ষে থাকা নিউজিল্যান্ডের অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান রস টেলর, ‘আমি আমার ক্রিকেট ক্যারিয়ারে এমন অদ্ভুত ঘটনা আগে ঘটতে দেখিনি।’
এজন্য ম্যাচ রেফারি বাংলাদেশ দলের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। সঠিক লক্ষ্য না জেনে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশ দ্বিতীয় ওভারের শেষ বলে লিটন দাসকে হারানোর পরও ১০ ওভার পর্যন্ত জয়ের পথেই ছিল। নিজেকে হারিয়ে খোঁজা সৌম্য সরকার জ্বলে উঠেছিলেন একদম ঠিক সময়েই। টর্নেডো ব্যাটিংয়ে পাঁচ চার ও তিন ছক্কায় মাত্র ২৫ বলে তুলে নেন ক্যারিয়ারের তৃতীয় টি ২০ ফিফটি। সৌম্যকে দারুণ সঙ্গ দিচ্ছিলেন তরুণ ওপেনার মোহাম্মদ নাঈম। দ্বিতীয় উইকেটে তাদের ৮১ রানের জুটিতে ১০ ওভারে এক উইকেটে ৯৪ রান তুলে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে প্রথম জয়ের জোর সম্ভাবনা জাগিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু ১১তম ওভারের প্রথম বলেই ছন্দপতন। টিম সাউদিকে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ২৭ বলে ৫১ রান করা সৌম্য। ১৩তম ওভারে ম্যাচসেরা গ্লেন ফিলিপসের শিকার ৩৫ বলে ৩৮ রান করা নাঈম। পরের ওভারে জোড়া শিকার ধরে বাংলাদেশের সম্ভাবনার অপমৃত্যু নিশ্চিত করেন প্রায় আড়াই বছর পর আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে নামা কিউই পেসার অ্যাডাম মিলনে। বলের লাইনে না গিয়ে ব্যাট চালিয়ে বোল্ড অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ (১২ বলে ২১) ও আফিফ হোসেন। পরের ওভারে একইভাবে নিজের উইকেট বিলিয়ে আসেন মোহাম্মদ মিঠুন। সময়ের দাবি মেটাতে ব্যর্থ মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনও। এক উইকেটে ৯৪ থেকে ১৩৭ রানে নেই সাত উইকেট। শেষ পর্যন্ত সাত উইকেটে ১৪২ রানে থামে বাংলাদেশ। ব্যাটিংয়ের মতো বোলিংয়েও আশাজাগানিয়া শুরুর পর মাঝপথে খেই হারিয়েছিল সফরকারীরা। ১৪ ওভারে ১১১ রানে পাঁচ উইকেট হারানো নিউজিল্যান্ড ১৭.৫ ওভারে ১৭৩ পর্যন্ত যেতে পারে ষষ্ঠ উইকেটে গ্লেন ফিলিপস ও ড্যারিল মিচেলের ৬২ রানের বিস্ফোরক জুটির সুবাদে। ফিলিপস ৩১ বলে ৫৮* ও মিচেল ১৬ বলে করেন ৩৪* রান। মোস্তাফিজুরের জায়গায় সুযোগ পাওয়া তাসকিন আহমেদ শুরুতে ফিরিয়েছিলেন ফিন অ্যালেনকে। এরপর সাইফউদ্দিনের বলে দুর্দান্ত এক ক্যাচে গাপটিলকে ফেরান তাসকিন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ৩.৫ ওভারে তিনি দিয়েছেন ৪৯ রান। দুই উইকেট নেওয়া মেহেদী হাসান চার ওভারে গুনেছেন ৪৫ রান। তুলনামূলক ভালো করেন আগের ম্যাচে অভিষিক্ত দুই তরুণ নাসুম আহমেদ (০/২৫) শরিফুল ইসলাম (১/১৬)।
আগামীকাল অকল্যান্ডে তৃতীয় ও শেষ টি ২০ দিয়ে শেষ হবে মাহমুদউল্লাহদের নিউজিল্যান্ড সফর।
(স্কোর কার্ড খেলার পাতায়)