বি৭১নি ডেস্ক ::
মিয়ানমারে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে শতাধিক বেসামরিক লোক নিহত হওয়ার পর রোববার দেশজুড়ে শোক পালন করেছে সামরিক জান্তা বিরোধীরা। এই শোকের মাঝেই সামরিক শাসন প্রত্যাহারের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় জানিয়েছেন তারা।
এদিকে মিয়ানমারে নির্বিচারে গুলি ও শতাধিক মৃত্যুর ঘটনায় বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে। জাতিসংঘ ও বিভিন্ন দেশ এ ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে। খবর বিবিসি, রয়টার্স ও এএফপিসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের।
যুক্তরাষ্ট্র এ ঘটনাকে ‘ভয়ানক’ বলে অভিহিত করেছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন বলেছেন, মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী নিরস্ত্র বেসামরিক মানুষকে হত্যা করছে। বার্মার সাহসী জনগণ সামরিক বাহিনীর সন্ত্রাসের রাজত্ব প্রত্যাখ্যান করেছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বলেছে, মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনী দিবস সন্ত্রাস ও অসম্মানের দিনে পরিণত হয়েছে। জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, মিয়ানমারে শনিবারের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তিনি ‘স্তম্ভিত’। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডমিনিক রাব বলেছেন, এমন পরিস্থিতি হতাশাজনক।
মিয়ানমারে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত টমাস ভাজদা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বিবৃতিতে লিখেছেন : এই রক্তপাত আতঙ্কজনক। মিয়ানমারের নাগরিকরা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে : তারা সামরিক শাসনের অধীনে থাকতে চায় না।
আর মিয়ানমারে ইইউ প্রতিনিধি দল বলেছে, শনিবারের দিনটি নৃশংসতা আর অসম্মানের চিরস্থায়ী চিহ্ন হয়ে থেকে যাবে। জাতিসংঘের বিশেষ দূত টম অ্যান্ডরু এই রক্তপাত বন্ধে বিশ্ববাসীকে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। যদি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের মাধ্যমে নাও হয়, তাহলেও জরুরি আন্তর্জাতিক সম্মেলন করে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছেন তিনি।
সামরিক জান্তা যাতে মিয়ানমারের তেল-গ্যাস বিক্রি করে অর্থ জোগাড় করতে না পারে সে বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ারও আহ্বান জানান টম অ্যান্ডরু। পশ্চিমা বিশ্ব তীব্র নিন্দা জানালেও মিয়ানমারের জান্তা সরকার একেবারে বন্ধুহীন নয়।
রাশিয়ার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার ফোমিন রাজধানী নেপিদোতে শনিবারের সামরিক কুজকাওয়াজে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এবং আগের দিন জান্তা নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
মিয়ানমারে শনিবার ছিল সশস্ত্র বাহিনী দিবস। এদিন রাজধানী নেপিদোতে সেনা কুচকাওয়াজের পরপরই সেনা অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে চলমান বিক্ষোভে চরম দমনপীড়ন চালানো হয়। অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনারস (এএপিপি) নামের একটি পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ৯১ জনের নিহত হওয়ার ঘটনা নিশ্চিত করেছে।
তবে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, নিহতের সংখ্যা ১১৪। মিয়ানমার নাও-এর খবরে বলা হয়েছে, শুধু মান্দালয় শহরে শিশুসহ অন্তত ৪০ জন ও ইয়াঙ্গুনে ২৭ জন নিহত হন।
সংখ্যালঘু কারেন সম্প্রদায়ের একটি গ্রামে মিয়ানমারের সামরিক বিমানের হামলায় অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন।
এর আগে সশস্ত্র কারেনগোষ্ঠী-কারেন ন্যাশনাল ইউনিয়নের একটি অংশ থাইল্যান্ড সীমান্তের কাছে সেনাবাহিনীর একটি চৌকি গুঁড়িয়ে দেওয়ার দাবি করে, যেখানে ১০ জনের মৃত্যু হয়। তার পরই এই বিমান হামলা চালানো হয়। বিমান হামলার পর গ্রামবাসী জঙ্গলে আশ্রয় নিয়েছে।
মিয়ানমারে গত নভেম্বরের নির্বাচনে অং সান সু চির ক্ষমতাসীন দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) বিপুল জয় পায়। কিন্তু নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তোলে সেনাবাহিনী। তারা পার্লামেন্টের প্রথম অধিবেশন শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে ১ ফেব্রুয়ারি ভোরে সামরিক অভ্যুত্থান করে।
এদিন সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইংয়ের নেতৃত্বাধীন সেনাবাহিনী সু চির সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করে। সেনাবাহিনী সু চি ও প্রেসিডেন্ট উইন মিন্টসহ রাজনৈতিক নেতাদের গ্রেফতার করে। জান্তা শাসকদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দিন দিন জোরালো হচ্ছে। সঙ্গে দমনপীড়নও জোরদার করছে নিরাপত্তা বাহিনী।