• ১০ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২৭শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , ২২শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

অবৈধ স্ট্যান্ড উচ্ছেদে গিয়ে হামলার শিকার মেয়র ও কাউন্সিলররা

bijoy71news
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২১

॥ ত্রিমুখি সংঘর্ষে রণক্ষেত্র চৌহাট্টা
॥ পুলিশের ফাঁকা গুলি
॥ কাউন্সিলরসহ আহত : ১৫
॥ আগ্নেস্ত্রসহ আটক : ১

নুরুল হক শিপু ::
সিলেট নগরীর চৌহাট্টা এলাকা ত্রিমুখী সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে বুধবার (১৭ ফেব্রুয়ারি)। মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকারের অবৈধ স্ট্যান্ড উচ্ছেদে গিয়ে হামলার মুখে পড়েছেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ও সিসিকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এসময় পুলিশ বাধা দিলে পুলিশের উপরও হামলা করেন পরিবহন শ্রমিকরা। একপর্যায়ে ত্রিমুখি সংঘর্ষ বেঁধে যায়। সংঘর্ষে কাউন্সিলর-পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। দুপুর ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
আধঘন্টা পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। সংঘর্ষ থামাতে পুলিশকে ১৬ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়তে হয়। ঘটনাস্থল থেকে আগ্নেয়াস্ত্রসহ ফয়সল আহমদ ফাহাদ (৩৮) নামে এক পরিবহন শ্রমিককে আটক করে মহানগর পুলিশ। সংঘর্ষ চলাকালে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সাধারণ মানুষ দিকবিদিক ছুটাছুটি করতে দেখা যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, পরিবহন শ্রমিকদের হামলার পর পর সিটি কর্পোরেশনের কর্মীরাও পাল্টা হামলা চালান। একপর্যায়ে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পরেন। পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে চাইলে পুলিশের উপরও হামলা চালায় শ্রমিকরা। এসময় অর্ধশতাধিক গাড়ি ভাঙচুর করা হয় এবং চৌহাট্টা-আম্বরখানা, চৌহাট্টা-রিকাবীবাজার, চৌহাট্টা-জিন্দাবাজার, চৌহাট্টা-মিরবক্সটুলা সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
এ ব্যাপারে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, উন্নয়ন বাধাগ্রস্থ করতেই একটি পক্ষ এসব করছে।
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র প্যানেলের প্রথম সদস্য তৌফিক বক্স লিপন বলেন, গত ৪দিন আগে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীসহ আমরা চৌহাট্টায় অবৈধভাবে স্ট্যান্ড করে বসা শ্রমিকদের সাথে দেখা করি। তাদেরকে জানাই সিসিকের উন্নয়ন কাজ চলছে। পরবর্তী দুদিনের মধ্যে স্ট্যান্ড সরানোর জন্য তাদের সময় দেয়া হয়। তিনদিন পর বুধবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সিটি কর্পোরেশনের একজন কাউন্সিলর ছাড়া আমরা সকলে শ্রমিকদের সাথে দেখা করে শান্তিপূর্ণভাবে তাদেরকে স্ট্যান্ড শরিয়ে নিতে আহ্বান জানাই। এসময় তারা আমাদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। আমাদের ৪/৫ জন কাউন্সিলর ইটপাটকেলের আঘাতে আহত হয়েছেন। অনেক কর্মকর্তা ও কর্মচারীও আহত হয়েছেন।
সিলেট মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (ট্রাফিক) ফয়সল মাহমুদ বলেন, সরকারি রাস্তা দখল করে যানবাহন রাখা হচ্ছে দীর্ঘদিন থেকে। কিন্তু সম্প্রতি সিসিকের উন্নয়ন কাজ শুরু হওয়ায় চৌহাট্টাস্থ এলাকার অবৈধ পরিবহন স্ট্যান্ড সরানোর জন্য বলা হলেও শ্রমিকরা যানবাহন না সরিয়ে বিভিন্ন দাবি জানিয়ে আন্দোলন শুরু করেন। এক পর্যায়ে সিসিকের কর্মী ও পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
সিলেট কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আবু ফরহাদ বলেন, পুলিশ আধঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এসময় ১৬ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোঁড়া হয়। তিনি বলেন, ঘটনাস্থল থেকে আগ্নেয়াস্ত্রসহ ফয়সল আহমদ ফাহাদ (৩৮) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে একই সাথে সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ এসল্ট মামলা দায়ের প্রক্রিয়াধীন।
সিলেট জেলা পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মুহিন বলেন, শ্রমিকদের উপর হামলার পর শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়েছে। তিনি বলেন, অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার যুবক শ্রমিকের কেউ নয়।
তিনি বলেন, উচ্ছেদের আগে আমাদের বিকল্প একটি জায়গা প্রদানের জন্য মেয়রের কাছে অনুরোধ করেছিলাম। কিন্তি তিনি তা না শুনে আজ দলবল নিয়ে এসে আমাদের উপর হামলা করেন ও গাড়ি ভাঙচুর করেন। সংঘর্ষে পরিবহন শ্রমিদকের ৫/৬ জন আহত হয়েছেন বলে জানান তিনি।
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা আব্দুল আলিম শাহ বলেন, মেয়র, কাউন্সিলর ও ম্যাজিস্ট্রেটদের সাথে আলাপচারিতার এক পর্যায়ে পরিবহন শ্রমিকরা আচমকা হামলা চালায়। এসময় কাউন্সিলরসহ সিসিকের অন্তত ১০-১৫ জন আহত হয়েছেন। হামলার একপর্যায়ে বন্দুক নিয়ে একজন মেয়রের দিকে তেড়ে আসে। পুলিশ সাথে সাথে তাকে আটক করেছে। আমাদের আশঙ্কা মেয়রকে হত্যার উদ্দেশ্যই সে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে এসেছিল।
উল্লেখ্য, বুধবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে চৌহাট্টা এলাকায় সড়কের উন্নয়ন কাজ বন্ধ করে দিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে পরিবহন শ্রমিকরা। এ খবর পেয়ে দুপুরে কাউন্সিলর, ম্যাজিস্ট্রেট ও সংশ্লিস্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে উন্নয়ন কাজ পরিদর্শনে যান মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। এসময় তিনি দেখতে পান পরিবহন শ্রমিকরা তখনও সড়ক ও ফুটপাত দখল করে গাড়ি পার্কিং করে রেখেছেন। এসময় মেয়রসহ সিসিকের কর্মকর্তারা সড়ক সম্প্রসারণের কাজ শুরু করতে চাইলে তারা বাধা দেন। এনিয়ে আলাপচারিতার একপর্যায়ে সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তাদের উপর হামলা চালায় পরিবহন শ্রমিকরা।