• ১২ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২৯শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , ২৪শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

ব্যাডমিন্টন জাতীয় দলের খেলোয়াড় অপুর স্ট্যাটাস : অনেক আলোচনা : প্রতিকার নেই?

bijoy71news
প্রকাশিত মে ১১, ২০২০

স্পোর্টস রিপোর্টার ::
বাংলাদেশ ব্যাডমিন্টন জাতীয় দলে তারকা খেলোয়াড়, সাবেক অনুর্ধ্ব-১৯ এককের রানারআপ ও দ্বৈত চ্যাম্পিয়ন খায়রুল ইসলাম অপু তার ফেসবুক আইডি ড্রেসিং অপু আইডি থেকে একটি আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছেন। যা নিয়ে রীতিমতো শুরু হয়েছে তোলপাড়। সাবেক ও বর্তমান খেলোয়াড়দের কমেন্টে স্ট্যাটাসটি নিয়ে গত দুইদিন থেকে ব্যাডমিন্টন অঙ্গণে চলছে নানা আলোচনা।
স্ট্যাটাস এবং স্ট্যাটাসের উল্লেখযোগ্য মন্তব্য হুবুহু বিজয়৭১নিউজডটকমের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।
‘বাংলাদেশ জাতীয় দলে খেলার স্বপ্ন ক্রীড়াজ্ঞনের সবারই থাকে। বাদ দিলাম সবার কথা। আসি নিজের অস্তিত্বের কথায়। ব্যাডমিন্টন বাংলাদেশ দলে খেলার স্বপ্ন ছোট থেকে জাগতো। তাই ছোটবেলা থেকে পরিবারের অনেক টাকা নষ্ট করতে শুরু করি। যা এখন পর্যন্ত করেই যাচ্ছি। অনেক কষ্ট করে দলে ঢুকি। প্র্যাক্টিস কোচের পরিশ্রম সব মিলিয়ে নিজের অস্তিত্বকে দাড়ালো দায়ের নিচে রেখে অসম্ভাবনীয় ভবিষ্যৎ বেচে নেই। তার পরে জাতীয় দলে স্থান পাই। এরকম ত্যাগ অনেকেরই আছে আমার মতো। কিন্তু বর্তমানে অনেকেই দেখি ফেইসবুকে দেন উনারা জাতীয় দলের খেলোয়াড়। দেখে কষ্ট লাগে কারণ জীবনে দলে ঢুকার এমনকি দলে ডাক পাওয়ার সুযোগ ও তাদের হয়নি। অথবা তারা ব্যাডমিন্টন সংশ্লিষ্ট নয় তারাও আজ জাতীয় দলের খেলোয়াড়? আমি তাদের বিরোধিতা করছি না। আমি কাউকে হেয় প্রতিপন্ন বা কাউকে কষ্ট দিচ্ছি না। নিজের পরিশ্রম টাকা অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ যার জন্য সব বিসর্জন দিলাম তার জন্য কষ্ট লাগে।। ব্যাডমিন্টন তুমি আমাকে অপু পরিচয় দিয়েছ। এছাড়া আমি তোমার কাছে থেকে কিচ্ছু পাইনি। তুমি আমার পেশা নয়; তুমি আমার হৃদয়ের স্পন্দন। তুমি আমার নেশা। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তোমার জন্য পরিবারকে নিঃস্ব করে যাবো।’
ব্যাডমিন্টন কোচ মঞ্জুর আল মামুন মন্তব্যে লিখেছেন, ‘এটা প্রতিটি ব্যাডমিন্টন খেলোয়াডের জন্য চির সত্য! তাতে কি আমরা সুন্দর মনের এক জন অপুকে পেয়েছি! পেয়েছি সুদর্শন শিশু সুলভ এক জন ভালো মানুষকে পেয়েছি। ব্যাডমিন্টন পাগল অপুকে-যার পরিচয় থাকবে সারা জীবন ‘ব্যাডমিন্টনের অপু’ আমাদের অপুর জন্য অনেক অনেক ভালোবাসা।’
ইন্টারন্যাশনাল আম্পায়ার রাসেল নাজিব ইসমাইল তাঁর মন্তব্যে লিখেছেন, ‘আমি একটা ঘটনার সাক্ষী এবং প্রতিবাদকারী ও শেষ পর্যন্ত জয়ী। জাতীয় যুব দল ব্যাংকক যাবে ২০১৫ সালে অনুর্ধ ১৯ টুর্নামেন্ট খেলতে আর আমি যাব রেফারি কোর্সে, এবং শামিম যাবে আম্পায়ার্স কোর্সে। আমি তৎকালীন টেকনিক্যাল কমিটির সেক্রেটারি। আমার স্পষ্ট মনে আছে আগের ট্যুরে অপু জাতীয় যুব দলে ছিল। আমি ফাইল কল করি, কিন্তু ফেডারেশন অফিসে ফাইল পাই না। পরে জানতে পারি জিলানী-ইসলাম আগের ট্যুরের ফাইল সহ জাতীয় জুনিয়র চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইল ইসলাম সাহেবের অফিসে রেখে দিয়েছেন। আমি ইমেইল থেকে আগের ট্যুরের পেপার বের করে, অপুকে ফোন করে পাসপোর্ট কপি ইমেইলে আনিয়ে নিয়ে অপুর নাম দিয়ে এন্ট্রি ফিলাপ করে রাখি। কিন্তু বাধ সাধেন জিলানী আর পিছন থেকে ইসলাম পরিকল্পনা মাফিক। তার অন্য একজন খেলোয়াড়কে পাঠানোর ব্যবস্থা করে রেখেছিলেন এবং তার পাসপোর্টের কপির জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এদিকে দেরি করতে করতে এন্ট্রির লাস্ট ডেট পার হয়ে যায়, এন্ট্রি দিতে পারি না। আমি ব্যাডমিন্টন এশিয়ার অফিসিয়াল যিনি সিঙ্গাপুরে মিটিং এ ছিলেন, যিনি আমার অত্যন্ত ভালো বন্ধুও বটে, তার মোবাইলে ফোন করি। তিনি রোমিং এ থেকেও ফোন ধরেন এবং বাংলাদেশ দলের এন্ট্রি দেয়ার জন্য দেড় দিন সময় আমাকে বাড়িয়ে দেন। এদিকে আমি এন্ট্রির কথা বলাতে জিলানী আমার উপর রাগ করে ঝাড়ি দেয়া শুরু করেন। ব্যাডমিন্টন ছিল জিলানীর পেশা আর আমার নেশা। আমি ছাড়ার পাত্র না, তাকে এক চোট নিয়ে নেই এবং লাকিলি তৎকালীন টেকনিক্যাল কমিটির অন্য দুই সদস্য সুমন ও রোমেল আমাকে আমার সঠিক কাজে সমর্থন করেন। জিলানী – ইসলাম চাচ্ছিল হয় অন্য খেলোয়াড় যাক অথবা জাতীয় জুনিয়র দল না যাক। আমি তার দীর্ঘসুত্রিতা টের পেয়ে অপু সহ জাতীয় জুনিয়র দলের নাম পাঠিয়ে দেই অতিরিক্ত পাওয়া দেড় দিনের শেষ মুহুর্তে এবং জিলানী – ইসলামের কুপরিকল্পনা ভেস্তে দেই। জিলানী – ইসলাম আমার বিপক্ষে অনেক কাজ করলেও সরাসরি যুদ্ধ ছিল প্রথম। জিলানী আমার প্রথমজীবনের কোচ হওয়াতে আমি জাস্ট তার আচরনের প্রতিবাদ করি, কিন্তু খারাপ ব্যবহার অনেকটাই সহ্য করে নেই। অন্যদিকে সন্তুষ্টি অর্জন করি যে, অপূর প্রতি অবিচার রুখতে পেরেছিলাম।
একজন খেলোয়াড় অনেক কষ্ট করে জাতীয় পতাকা বুকে ধারণ করার যোগ্যতা অর্জন করে। এটা রক্ত পানি করা অর্জন, কারো দান না। এই অর্জনের যন্ত্রণা অনেকেই বুঝবে না। আমি আশা করব জাতীয় দল শব্দ দুইটার ব্যবহারে সবাই যতœশীল হবে।’
যুব জাতীয় দলের খেলোয়াড় হানিফ মোহাম্মদ তার মন্তব্যে লিখেছেন, ‘একটা প্লেয়ার কত কস্ট করে ন্যাশনাল টিমে ঢুকে। আর কিছু মানুষ এই ন্যাশনাল শব্দটাকে দুধভাত বানিয়ে যাকে ইচ্ছা তাকে ন্যাশনাল টিমের প্লেয়ার বানিয়ে দিচ্ছে। কেউ বা আবার কারো সাথে ছবি তুলে ক্যাপশনে লেখছে জাতীয় দলের খেলোয়াড় (যে-কোনোদিন ন্যাশনাল টিমে ডাক ও পায়নি)-এগুলো দেখলে আসলে নিজের কাছে খারাপ লাগে। ন্যাশনাল শব্দটার একটা মূল্য আছে। কিন্তু কিছু গন্ড মূর্খের দল এটাকে দিনদিন মূল্যহীন করে দিচ্ছে।
এ ব্যাপারে প্রতিকার চেয়েছেন, জাতীয় দলের খেলােয়াড় একাধিকবার বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন এনামুল হক এনাম, খালেদ আহমদ, গৌরব ও মাঙ্গাল। তারা এ প্রতিবেদককে বলেন, জাতীয় দলে আমরা অনেক ঘাম আর শ্রমে স্থান পাই। তাই যে কেউ যাতে জাতীয় দলের ভুয়া পরিচয় দিতে না পারে এবং যারা পরিচয় দিয়ে বিভিন্নভাবে ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করছে অচিরে তাদেরকে চিহ্নত করে ব্যবস্থা নিতে ফেডারেশনের সুদৃষ্টি কামনা করেন।