ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিস-এ আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক সেমিনারে ইউরোপভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন South Asia Rights Initiative (SARI) বাংলাদেশের সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
রোববার (১ মার্চ ২০২৬) “Democratic Integrity, Civic Participation and Institutional Transparency” শীর্ষক সেমিনারে সংগঠনটির পক্ষ থেকে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট দেশের অভ্যন্তরে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গণতান্ত্রিক বৈধতা, স্বচ্ছতা ও জনআস্থার বিষয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে।
বিবৃতিতে দাবি করা হয়, নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত ভোটার উপস্থিতির তথ্যে “সংখ্যাগত অসঙ্গতি” ও “অস্বাভাবিক ভোটের গতি” লক্ষ্য করা গেছে। সংগঠনটির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে অস্বাভাবিক হারে ভোট পড়েছে, যা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাদের মতে, দেশের হাজার হাজার ভোটকেন্দ্রে এত অল্প সময়ে বিপুলসংখ্যক ভোট গ্রহণ কার্যত অসম্ভব।
SARI অভিযোগ করে, বহু ভোটকেন্দ্র ফাঁকা থাকা সত্ত্বেও উচ্চ ভোটার উপস্থিতি দেখানো হয়েছে। পাশাপাশি পূর্বেই সিল মারা ব্যালট পেপার, ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, ভোট গণনা ও ফল প্রত্যয়ন প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং স্বচ্ছতার অভাবের অভিযোগও তোলা হয়।
সংগঠনটি আরও জানায়, কারাবন্দী ও প্রবাসী ভোটারদের অংশগ্রহণ অত্যন্ত কম ছিল, যা ঘোষিত প্রায় ৬০ শতাংশ ভোটার উপস্থিতির দাবির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এছাড়া রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও প্রশাসনিক কাঠামোর ব্যবহার, ব্যালট নকশায় পক্ষপাত এবং ফলাফল প্রকাশে বিলম্ব ও অসঙ্গতির বিষয়েও প্রশ্ন তোলা হয়।
বিবৃতিতে সতর্ক করে বলা হয়, এই ধরনের বিতর্কিত নির্বাচন রাজনৈতিক মেরুকরণ বাড়াতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে প্রাতিষ্ঠানিক অবিশ্বাস ও অস্থিতিশীলতার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ কোনো নির্বাচন টেকসই গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার ভিত্তি হতে পারে না বলেও উল্লেখ করা হয়।
উক্ত অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা।
এছাড়া বক্তব্য দেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ, আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ব্যারিস্টার তাপস বাউল, আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, সাইফুজ্জামান শেখর, এস এম রেজাউল করিম, এ এফ এম গোলাম জিলানী, ব্যারিস্টার মাসুদ আখতার, আমিনুল হক পলাশ, খলিলুর রহমান, সুশান্ত দাস গুপ্ত, জাকারিয়া মাহমুদ, এম এ কাশেম, মুজিবুর রহমান, সাত্তার আলী সুমন, মনজুর হাসান চৌধুরী সেলিম এবং মেরী হাওলাদার।
অনুষ্ঠানের আয়োজক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেলওয়ার হোসেন কয়েস, মোহাম্মদ হাসান আহমেদ, সাদিকুর রহমান, সাঈদুর রহমান সাঈদ এবং চৌধুরী মারুফ আমিত।
শেষে SARI জানায়, তারা তাদের পর্যবেক্ষণ কার্যক্রমে সংগৃহীত নথি ও পরিসংখ্যান প্রয়োজনে প্রকাশ করতে প্রস্তুত রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বাংলাদেশের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নাগরিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানায়।